ভারতের লাল বলের ৬ জন হেড কোচ বদলাতে সময় লেগেছে ১৮ বছর, বাংলাদেশের লেগেছে ১৩ বছর। আর পাকিস্তান একই সংখ্যক—৬ জন কোচ বদল সেরে ফেলেছে মাত্র তিন বছরে। এই একটা তুলনাই বলে দেয়, পাকিস্তান ক্রিকেটের সংকট আসলে কোথায়!
গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্ন, মোহাম্মদ হাফিজ, জেসন গিলেস্পি, আজহার মাহমুদ, সরফরাজ আহমেদ হয়ে এখন আবার মাইক হেসন। ছয়জন ভিন্ন কোচের তিন বছর মেয়াদে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনার খেসারত দিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিটি বদলের পেছনেই একই ধরনের প্যাটার্ন—একটা সিরিজ খারাপ গেলেই পুরো ব্যবস্থাপনা ভেঙে নতুন করে সাজানো হয়, অথচ নতুন কোচকে থিতু হওয়ার সময়টুকুও দেওয়া হয় না।
এই প্রবণতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ সদ্য ঘটা ইংল্যান্ড কাণ্ড। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে, লর্ডসে ১৯৪ রানে হার—সিরিজ তখনই হাতছাড়া। কিন্তু আসল ধাক্কা আসে এরপর। সিরিজ চলাকালীনই বরখাস্ত হন হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুল, দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সাত ক্রিকেটারকে—যাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাও। মাঝপথে দল সাজাতে ডেকে আনা হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম এই দলকে আখ্যা দেয় ‘গত পঞ্চাশ বছরে পাকিস্তানের সবচেয়ে বাজে দল’ বলে।

এই অস্থিরতার কেন্দ্রে আছেন বোর্ড সভাপতি মহসিন নাকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। ২০২৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর দায়িত্ব নিয়ে তিনি অস্ত্রোপচার-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আড়াই বছর পর সেই অস্ত্রোপচার সফল হয়নি বলেই মত বিশ্লেষকদের। ইংল্যান্ড সফরের এই সিদ্ধান্তের পর প্রধান নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগ করেন, অভিযোগ তোলেন তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি সিদ্ধান্তের আগে। যদিও বোর্ড এখনো তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি।
সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ সরাসরি বোর্ডকেই দুষেছেন, বলেছেন দায় শুধু খেলোয়াড়দের নয়। শহীদ আফ্রিদি ও শোয়েব মালিকও সমালোচনা করেছেন বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। মালিকের প্রশ্ন ছিল, দায়বদ্ধতার শুরুটা খেলোয়াড় থেকে না হয়ে ব্যবস্থাপনা থেকে হওয়া উচিত ছিল। সমালোচনার জবাবে নকভী অবশ্য পাল্টা বলেছেন, সমালোচনায় তিনি ভয় পান না, বরং র্যাঙ্কিং দেখে বিচার করতে বলেছেন।
সাদা বলে র্যাংকিং যুৎসই, লাল বলে বিপর্যয়—দুটো মাপকাঠি দিয়ে বোর্ড নিজের সাফল্য-ব্যর্থতা বেছে বেছে দেখায়, এটাও সমালোচনার বড় জায়গা। এর আগে এশিয়া কাপে ভারতের সঙ্গে হ্যান্ডশেক-বিতর্ক ঘিরেও একই রকম বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল—সংবাদ সম্মেলন বাতিল, মাঠে দেরিতে নামা, আম্পায়ার সরানোর দাবি। প্রতিটি ঘটনাতেই একই সুর—সিদ্ধান্ত হয় তাৎক্ষণিক আবেগ থেকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে নয়। কোচ বদলের গতিটাই শেষ পর্যন্ত বলে দিচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের আসল সমস্যা মাঠের চেয়ে বোর্ডরুমেই বেশি।












