একসময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। লড়াইটাও হতো সেয়ানে সেয়ানে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বাইরের আলোচনাই যেন আরও বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রটা কি বদলে গেছে? ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে এখন হাইপ আছে, আবেগ আছে, উত্তাপ আছে, কিন্তু মাঠের লড়াইটা কোথায়? ছেলেদের ক্রিকেট হোক কিংবা মেয়েদের ক্রিকেট, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অন্তত সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিচ্ছে।
নারী এশিয়া কাপেই যেন সেই বাস্তবতার আরও একটি নির্মম ছবি দেখা গেল। ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট পাকিস্তান। নিজেদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এটিই পাকিস্তান নারী দলের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। বলে দাপট দেখানো চারত ব্যাট হাতে হেসেখেলে পাকিস্তান হারিয়েছে। হাইভোল্টেজ ম্যাচের এমন ফলাফল নিশ্চয় কেউ কল্পনাতেও আনতে চাইবে না।
এটা যে কেবল একটি ম্যাচের ব্যর্থতা, সেটাও না। সর্বশেষ ১০ মুখোমুখি ম্যাচের হিসাব বলছে, ভারতীয় মেয়েদের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় মাত্র একটি। বিপরীতে ভারত জিতেছে নয়টি ম্যাচ। ২০২২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সেই একটি জয়ই এই সময়ের মধ্যে তাদের একমাত্র সাফল্য। এরপর বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বারবারই ভারতের সামনে নতিস্বীকার করেছে পাকিস্তান।

ছেলেদের ক্রিকেটেও চিত্রটা খুব একটা আলাদা নয়। সর্বশেষ ১০ মুখোমুখি ম্যাচের হিসাবে ভারত জিতেছে আটটি, পাকিস্তানের জয় একটি; আরেকটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। ২০২৫ এশিয়া কাপে তো তিনবার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত।
অর্থাৎ দুই দলের পুরুষ ক্রিকেটেও সাম্প্রতিক ১০ ম্যাচের লড়াইয়ে ভারতের দাপট স্পষ্ট। আর নারী ক্রিকেটের হিসাব তো আরও একতরফা। তাহলে প্রশ্নটা আসেই, ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের যে বিশাল আয়োজন তার কতটা এখন মাঠের ক্রিকেটে দেখা যায়?
অবশ্য পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসে কিন্তু কোনো ঘাটতি নেই। ভারতের কাছে ৫৫ রানে অলআউট হওয়ার পরও পাকিস্তান নারী দলের মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজ দাবি করেছেন, এশিয়া কাপে শিরোপা জেতার জন্য পাকিস্তানই সেরা দল। তাঁর মতে, নিজেদের সামর্থ্য ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে পাকিস্তান এখনো টুর্নামেন্টের সেরা দল। এমনকি ভারতের বিপক্ষে এই বিপর্যয়কে তিনি দলের ভুল থেকে শেখার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।

কিন্তু ওয়াহাব রিয়াজের আত্মবিশ্বাস আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধানটাই যেন এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ ভারতকে হারানোর কথা বলার পর মাঠে যদি ৫৫ রানে অলআউট হতে হয়, তাহলে সেই দাবির পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার ওপর সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলছে না।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাহাত্ম্য অবশ্যই থাকবে। দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাস, দর্শকদের আবেগ, রাজনৈতিক বাস্তবতা, সব মিলিয়ে এই লড়াই অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে আলাদা। কিন্তু শুধু নাম আর আবেগ দিয়ে তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয় না। দরকার মাঠের লড়াই, দরকার পাল্টা জবাব, দরকার শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা। এই মুহূর্তে সেই জায়গাটাতেই যেন ঘাটতি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে ম্যাচের আগেই, কিন্তু মাঠে নামার পর একপেশে হয়ে যায় লড়াই।










