সংগ্রামে, সমরে অনন্য পুয়োল!

মাথায় ঝাঁকড়া চুলের বাহার, চোখে ইস্পাত-দৃঢ় সংকল্প, শরীর সিক্ত ঘামে। তবু প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করার সমরেই তাঁর সমস্ত মনোযোগ! ফুটবলের সবুজ প্রাঙ্গণে এভাবেই অনবদ্য সংগ্রাম জারি রেখে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জেতা এই মানুষটা আর কেউ নন, স্পেনের বরেণ্য ডিফেন্ডার কার্লেস পুয়োল।

মাথায় ঝাঁকড়া চুলের বাহার, চোখে ইস্পাত-দৃঢ় সংকল্প, আর শরীর সিক্ত ঘামে। তবু প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করার সমরেই তাঁর সমস্ত মনোযোগ! ফুটবলের সবুজ প্রাঙ্গণে এভাবেই অনবদ্য সংগ্রাম জারি রেখে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জেতা এই মানুষটা আর কেউ নন, স্পেনের বরেণ্য ডিফেন্ডার কার্লোস পুয়োল।

বিশ্বসেরা এই ডিফেন্ডারের ফুটবল যাত্রার শুরুটা ছিল বেশ বৈচিত্র্যে ভরা! শৈশবে জন্মস্থানের ক্লাব লা পোবলা ডি সেগুরে গোলরক্ষক হিসেবে খেলা শুরুর পর হঠাৎ একদিন এক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের অভাবে স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। অদ্ভুতভাবে, সেই পজিশনটাকেই ধরে রাখেন পুয়োল।

পরে ১৬ বছর বয়সে তিনি পা রাখেন বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে। কিন্তু ১৯৯৯ সালে বার্সার মূল দলে অভিষেকের পর কোচ লুই ফন গাল আবার বদলে দেন পুয়োলের পজিশন! রাইট ব্যাক হিসেবে এই খেলোয়াড়কে খেলান তিনি। তবে, সবাইকে চমকে দিয়ে পুয়োল কোচকে আস্থার প্রতিদান দিয়ে রূপান্তরিত হন রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরীতে। কঠোর তপস্যা আর অদম্য মনোবলের জোরে তিনি অচিরেই হয়ে ওঠেনবার্সার রক্ষণের প্রাণভোমরা!

অনবদ্য ক্লিয়ারেন্স, ইন্টারসেপশানের কারিকুরির সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার দারুণ সামর্থ্যের কারণে ২০০৪ সালেই বার্সেলোনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বাহুতে জড়ান পুয়োল। শুরু হয় কাতালানদের হয়ে তাঁর সোনালী অধ্যায়।

ক্যাম্প ন্যুতে কাটানো ১৫ বছরে তিনি জেতেন ছয়টি লা লিগা এবং তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। ২০০৯ সালের ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়েও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এই লড়াকু অধিনায়ক। প্রতিপক্ষকে রুখে দিতে তিনি ক্ষিপ্র গতিতে ট্যাকলিং করলেও, দলের শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সবসময়ই ছিলেন অগ্রণী। এমনকি রাফ ট্যাকলিং করায়ও তাঁর খুব একটা প্রবণতা ছিল না। যা তাঁর অনন্য স্পোর্টসম্যানশিপ বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।

ক্লাব ফুটবলের মহাকাব্যিক সাফল্যের জয়রথ পুয়োল বয়ে নিয়ে গেছেন স্পেনের জাতীয় দলেও। নির্ভীক যোদ্ধার মতো লা রোহাদের সামনে থেকে পথ দেখিয়ে ২০০৮ সালের ইউরো জয়ের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাইয়ে দেন তিনি।

বিশেষ করে, ২০১০ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে অসাধারণ ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন পুয়োল। প্রথমার্ধে ডাই ম্যানশ্যাফটদের তীব্র আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পরও স্পেনের গোলবার অক্ষত রাখেন পুয়োল-পিকেরা। কিন্তু স্পেনিশরাও জার্মান রক্ষণ দুর্গ ভাঙতে পারছিল না।

ঠিক এমন সময়েই ত্রাতা হয়ে ওঠেন পুয়োল। দীর্ঘদেহী জার্মান ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করতে জাভি হার্নান্দেজকে কর্নারের বল ডি-বক্সের কিছুটা দূরে ফ্লোট করাতে পরামর্শ দেন তিনি, যাতে আনমার্কড অবস্থায় হেড করার সুবিধা কাজে লাগানো যায়।

এই পরামর্শই শাপে বর হয়ে ওঠে। জাভির ভাসানো বলে বক্সের বাইরে থেকে ছুটে এসে অবিশ্বাস্য এক লাফ দিয়ে মাথা ছুঁইয়ে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে বোকা বানান। আর তাতেই স্পেন পৌঁছে যায় স্বপ্নের ফাইনালে এবং ডাচদের হারিয়ে উঁচিয়ে ধরে সোনার ট্রফি।

 

ফুটবলের ময়দানে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ৯০ মিনিট লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনন্য মানসিকতার জন্য পুয়োল আজীবন অমর হয়েই থাকবেন। ২০০১ সালে তাঁর লা লিগা ব্রেকথ্রু প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার, ২০০৬ সালে উয়েফা ক্লাব বেস্ট ডিফেন্ডার কিংবা ২০১০ সালে প্রিন্স অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের মতো খেতাব অর্জনই সেটার দলিল!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link