মরিনহোর ইন্টার পাশ!

ইতালি চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকেই ধরা হচ্ছিল লিগ ফেইজে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে যখন হোসে মরিনহো, তখন রিয়ালের জন্য ইন্টারের পরীক্ষা পার করাটা একপ্রকার অনুমেয়ই ছিল।

ইতালি চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকেই ধরা হচ্ছিল লিগ ফেইজে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে যখন হোসে মরিনহো, তখন রিয়ালের জন্য ইন্টারের পরীক্ষা পার করাটা একপ্রকার অনুমেয়ই ছিল।

মাদ্রিদের জন্য এটি ছিল এক পরীক্ষা ও প্রমাণের মঞ্চ।ইউসিএলের প্রথম ম্যাচ, আর হোসে মরিনহোর অধীনে এক নতুন রিয়াল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক গভীর আবেগী পুনর্মিলনী।

একদা মিলান শহরকে ইউরোপের ট্রেবল জয়ের স্বাদ এনে দেওয়া সেই ‘স্পেশাল ওয়ান’ এর মুখোমুখি হয়েই যে শুরু হলো তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা। তবে মাঠের খেলায় সেন্টিমেন্টের কোনো সুযোগ দেননি মরিনহো, নিজের সাবেক ক্লাবকে ট্যাকটিকাল ছকে বন্দি করে তুলে নিয়েছেন ২-১ গোলের জয়।

মরিনহো এই ম্যাচে পজেশনভিত্তিক ফুটবলের দিকে না হেঁটে তার ট্রেডমার্ক কাউন্টার-অ্যাটাকিং এবং সলিড স্ট্রাকচারাল সেটআপ বেছে নেন। ইন্টারের ৩-৫-২ সিস্টেম যখন বিল্ড-আপের চেষ্টা করছিল, রিয়াল তখন মাঝমাঠে একটি অত্যন্ত নিবিড় ৪-৩-৩ মিড-ব্লক তৈরি করে রাখে।

ইন্টারের মূল প্লে-মেকারদের বল নেওয়া থেকে বিরত রাখতে মাঝমাঠের পুরো জোন লক করে রাখা হয়, যার ফলে সফরকারীরা বাধ্য হয়েই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে এবং বারবার রিয়ালের সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ লাইনে এসে ধাক্কা খায়।

ইন্টার যখনই ওপরের দিকে উঠে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছে, রিয়ালের বল উইনিং ডিফেন্ডাররা মাঝমাঠ থেকে বল কেড়েই তা সরাসরি চ্যানেলগুলোতে পাঠিয়েছেন। মরিনহোর নির্দেশ ছিল উইং-ব্যাকদের পেছনের ফাঁকা জায়গায় অতি দ্রুত বল ডেলিভারি করা। ইন্টারের ব্যাক-লাইন যখনই ওপরে উঠে ফরোয়ার্ড পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছে, রিয়ালের কাউন্টার-অ্যাটাক ততটাই প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। প্রথম অর্ধে অর্জিত দুই গোলের লিড ছিল মূলত এই নিখুঁত ট্রানজিশনাল স্পিডের ফল।

ইন্টার মিলান যখন দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালকে চাপে ফেলতে অল-আউট প্রেসিং শুরু করে, মরিনহো তখন শর্ট পাস দিয়ে বিল্ড-আপের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়িয়ে যান। দীর্ঘ পাস দিয়ে সরাসরি ফাইনাল থার্ডের ফরোয়ার্ডদের লক্ষ্য করে বল পাঠানো হয়। এতে ইন্টারের হাই-প্রেসিং কৌশল কার্যকর হতে পারেনি, উল্টো তাদের ডিফেন্স লাইন উন্মুক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বারবার পিছু হটতে বাধ্য হয়।

কার্লোস আউগুস্তোর গোলে ইন্টার ব্যবধান কমানোর পর ম্যাচের শেষ অংশ ছিল মরিনহোর প্রাগম্যাটিক ফুটবলের চরম নিদর্শন। ৪-৫-১ শেপে একটি অতি কম্প্যাক্ট লো-ব্লক তৈরি করে তিনি পুরো সেন্ট্রাল এরিয়াকে একদম ব্লক করে দেন। ইন্টার শেষদিকে অসংখ্য ক্রস এবং পাসে ফাইনাল থার্ডে ঢোকার চেষ্টা করলেও বার্নাব্যুর পেনাল্টি বক্সের ভেতর কোনো স্পেসই খুঁজে পায়নি।

​পরিকল্পিত ডিফেন্সিভ শেপ, দ্রুততম কাউন্টার অ্যাটাক এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্যাকটিক চেঞ্জ – এই তিনের নিখুঁত সমন্বয়েই ইউরোপিয়ান অভিযানের শুরুতেই ইন্টারকে ধরাশায়ী করলেন মরিনহো।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link