দরজায় কড়া নাড়ছে এশিয়ান গেমস, আর দলের নেতৃত্বের গুরুভার লিটন দাসের কাঁধে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত প্রস্তুতি ম্যাচে লিটনের পারফর্ম্যান্স যেন দলের দুশ্চিন্তার পাল্লা আরও ভারী করে তুলল।
শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংসের শুরুতেই নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে তিন বলে শূন্য রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন। প্রথমটিতেও ২৩ বলে ২৪ রানের এক মন্থর ইনিংস খেলেছিলেন লিটন, যা টি-টোয়েন্টির আধুনিক মেজাজের সাথে একেবারেই বেমানান। ব্যাট হাতে লিটনের এই সাম্প্রতিক অফ ফর্ম কেবল একটি কিংবা দুটি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বেশ নিরাশাজনক।
শেষ দশটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ১৭.৮ গড়ে ১৭৮ রান করেছেন লিটন। এই সময়ে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরি, তাও সেটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। বড় কোনো টুর্নামেন্টের ঠিক আগমুহূর্তে জাতীয় দলের অধিনায়কের এমন টানা রানখরা নি:সন্দেহে টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

অধিনায়কের ব্যাটে রান না থাকা মানেই কেবল ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্সের সংকট নয়, এটি দলের ওপরও এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। শুরুতে দ্রুত এবং সাবলীল সূচনা পাওয়ার যে প্রত্যাশা দলের থাকে, লিটনের অফ ফর্মে সেই সমীকরণ এখন কিছুটা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।
তবে লিটন দাসের ক্যারিয়ারগ্রাফ বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্রও চোখে পড়ে। টেকনিক্যালি নিখুঁত এই ব্যাটার অতীতে বহুবার প্রমাণ করেছেন, এক বা দুটি বড় ইনিংসেই তিনি নিজের চেনা ছন্দ ফিরে পান। চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর দক্ষতা এবং ক্লাসিক শট খেলার সামর্থ্য তাকে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার আত্মবিশ্বাস জোগায়।
সাম্প্রতিক ফর্মে তৈরি হওয়া এই ধাক্কা সামলে এশিয়ান গেমসের বড় মঞ্চে অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন তো লিটন? নাকি অধিনায়কের এই অফ ফর্ম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সাফল্যযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে? উত্তরটা অপেক্ষা করছে সূর্যোদয়ের দেশে।












