ক্রিকেটে কঠিন ভাবনার মারপ্যাঁচ ডাগআউট আর ড্রেসিংরুম ছাড়িয়ে দলের কোচের মাথায় সবসময়ই ঘুরপাক খেতে থাকে। ভারতের টি-টোয়েন্টি কোচ গৌতম গম্ভীরেরও ঠিক তেমনই দশা হয়েছিল দলে সাঞ্জু স্যামসন নাকি বৈভব সুরিয়াভানশিকে জায়গা দেবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর নিজেই স্বীকার করেছেন, এই দুই তারকার কাকে দলে রাখবেন সেই চিন্তা তাঁর রাতের ঘুমই কেড়ে নিয়েছিল!
দোলাচলটা অবশ্য তেমন অস্বাভাবিকও নয়! চলতি বছরের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় সাঞ্জু স্যামসনকে বাদ দেওয়া যেমন সহজ নয়, তেমনই স্বাভাবিক নয় বৈভব সুরিয়াভানশির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে উপেক্ষা করা।
মূলত, বিশ্বকাপের পর কয়েকটি ম্যাচে সাঞ্জুর ব্যাটে রানখরা দেখা দেয়। আর বৈভব তখন ঘরোয়া আসরে তাঁর ব্যাটিং ঝলক দেখাতে ব্যস্ত। সবশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার আইপিএলে ৭০০-এর ওপর রান এবং মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টের স্বীকৃতিও তাঁকে দলে নিতে ব্যাপক চাপের সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিই গৌতমকে মারাত্মক দ্বিধায় ফেলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত, নির্ঘুম এক রাত কাটিয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজে টপ অর্ডারে দ্রুত রান তোলার তাগিদে সাঞ্জুকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে, সাঞ্জুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই এই পদক্ষেপ নেন গম্ভীর।
কিন্তু, গল্পের নাটকীয় মোড় আসে ঠিক এর পরেই। কেননা, কেবল সাময়িক ফর্মের জোরে সাঞ্জু বা অভিষেক শর্মার মতো প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের জায়গায় দলে স্থান পেলেও সুরিয়াভাংশি আশানুরূপ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি সিরিজে। সঙ্গে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড দুটি সিরিজেই পরাজিত হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন ম্যান ইন ব্লুজ কোচ গৌতম। আর তাতেই বোধোদয় হয়েছে গম্ভীরের। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাইরের শোরগোল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার উত্তাপ কখনোই ভারতের স্কোয়াড নির্ধারণ করে দেবে না!
তাই কোচের চেয়ারে বসে জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হলেও, চ্যালেঞ্জ মূলত কোনটা সঠিক তা বিবেচনা করা। এ কারণেই বৈভবের সাময়িক চমকের বদলে আপাতত সাঞ্জু ও অভিষেকের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখেই সামনে হাঁটতে চাইছেন গম্ভীর। আর যাইহোক, মাঠে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটাই বৈভব, সাঞ্জুর মতো সকলের কাছ থেকেই চান গৌতম গম্ভীর।











