উয়েফা নেশনস লীগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে তাদেরই মাটিতে ২-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। পুরো ম্যাচজুড়ে ৫৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও ইতালির রক্ষণাত্মক দুর্বলতা এবং ধারহীন আক্রমণভাগ বেলজিয়ামের গতিশীল কাউন্টার-অ্যাটাকের সামনে পুরোপুরি পরাস্ত হয়। মিকা গডস এবং দোদি লুকেবাকিওর লক্ষ্যভেদে বেলজিয়াম মাঠ ছাড়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইতালি পজেশন ভিত্তিক ফুটবল খেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ডিফেন্স লাইন কিছুটা ওপরে তুলে প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে বেলজিয়ামের ট্যাকটিক্স ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তারা একটি সলিড মিড-টু-লো ব্লক সাজিয়ে ইতালিকে মাঝমাঠে বল হোল্ড করতে দিলেও নিজেদের বিপজ্জনক অঞ্চলে কোনো ফাঁকা জায়গা দেয়নি। এরপর বল পুনরুদ্ধারের পরপরই অত্যন্ত দ্রুতগতির ভ্যার্টিক্যাল ট্রানজিশনের মাধ্যমে আক্রমণে ওঠে রেড ডেভিলরা।

বেলজিয়ামের প্রথম গোলটি আসে ইতালির ওপরের দিকে উঠে আসা ডিফেন্সিভ লাইনের ভুলের সুযোগ নিয়ে। ইতালির ফুলব্যাকরা আক্রমণে সাহায্য করতে ওপরে উঠে গেলে উইংয়ের পেছনের খালি জায়গাটি দারুণভাবে কাজে লাগায় বেলজিয়াম। ২০তম মিনিটে সেই ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন তরুণ উইঙ্গার মিকা গডস।
দ্বিতীয় অর্ধে ইতালি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বেলজিয়ামের কাউন্টার-অ্যাটাকিং ধার অব্যাহত থাকে। ৬৯তম মিনিটে ইতালির অ্যাটাকিং থার্ডে বল হারানোর সুযোগে মাত্র কয়েকটি দ্রুতগতির পাসে দ্বিতীয় গোলটি তৈরি করে বেলজিয়াম। চার্লস ডি কেটেলেয়ার মাঝমাঠে ইতালির হাই প্রেসিং ভেঙে বক্সে বল বাড়ালে ডানদিক থেকে ঢুকে বাম পায়ের দর্শনীয় শটে গোলটি করেন দোদি লুকেবাকিও।
পরিসংখ্যানের বিচারে ইতালি পুরো ম্যাচে ২১টি শট নিলেও ফাইনাল থার্ডে সিদ্ধান্তহীনতা এবং ভালো কোনো অফ-দ্য-বল রানিং না থাকায় তারা গোল করতে ব্যর্থ হয়। বেলজিয়ামের কঠোর ডিফেন্সিভ শৃঙ্খলা এবং কাউন্টার-অ্যাটাকে উইঙ্গারদের গতিই এই ম্যাচের মূল ব্যবধান গড়ে দেয়। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে এমন ট্যাকটিক্যাল হার ইতালির কৌশল পুনর্গঠনের বড় প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।












