জয় দিয়েই মিশন শুরু ক্রোয়েশিয়ার!

উয়েফা নেশনস লিগে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। পজেশনভিত্তিক ফুটবলের আধিপত্য, সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ ব্লক এবং শেষ মুহূর্তের সঠিক বদলি খেলোয়াড় নামানোর ট্যাকটিকাল সিদ্ধান্ত মিলিয়ে এটি ছিল এক দৃষ্টিনন্দন কৌশলগত লড়াই।

উয়েফা নেশনস লিগে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। পজেশনভিত্তিক ফুটবলের আধিপত্য, সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ ব্লক এবং শেষ মুহূর্তের সঠিক বদলি খেলোয়াড় নামানোর ট্যাকটিকাল সিদ্ধান্ত মিলিয়ে এটি ছিল এক দৃষ্টিনন্দন কৌশলগত লড়াই।

ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের কোচ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন। ক্রোয়েশিয়া ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে মাঠে নেমে পজেশন ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়। মাঝমাঠে অধিনায়ক লুকা মড্রিচকে মূল কন্ডাক্টর হিসেবে রেখে তারা আক্রমণের দিক পরিবর্তন করার নীতি গ্রহণ করে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়া প্রায় ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও স্বাগতিকদের সুসংগঠিত লো ব্লক ডিফেন্স ভাঙতে রীতিমতো হিমশিম খায়। চেক ডিফেন্ডাররা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ক্রোয়াটদের স্বাভাবিক পাসিং লেনগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার গতি এক ধাক্কায় বেড়ে যায়। প্রথমার্ধে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে আটকে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে লুকা মড্রিচ কৌশল বদলে সেন্ট্রাল ব্যাক ও রাইট ব্যাকের মধ্যবর্তী হাফ স্পেস অঞ্চলে ঘোরাফেরা শুরু করেন। এই ছোট্ট ট্যাকটিকাল পরিবর্তনই ম্যাচের প্রথম মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৪৭ মিনিটে ওই অঞ্চলের ফাঁকা জায়গা থেকেই বল পান মড্রিচ এবং সেন্টার অব দ্য বক্স থেকে নেওয়া এক নিখুঁত শটে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

​তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি চেক প্রজাতন্ত্র। গোল হজমের পর পরই তারা হঠাৎ হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে শুরু করে, যা ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারদের তটস্থ করে তোলে।

ঠিক এর সাত মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৫৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার উইং ব্লকে তৈরি হওয়া একটি ভুল বোঝাবুঝির পুরো সুযোগ নেন চেক ফরোয়ার্ড অ্যাডাম হ্লোজেক। তাঁর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে স্বাগতিকদের ১-১ সমতায় ফেরান অ্যাডাম কারাবেক।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের গতি যখন কিছুটা ধীর হয়ে আসছিল, তখন ক্রোয়েশিয়ার কোচ ডাগআউট থেকে তাদের আসল ট্যাকটিকাল ট্রাম্পকার্ডটি খেলেন। ম্যাচের ৭০ মিনিটের পর ক্লান্ত চেক ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি তাজা পায়ের ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গারদের মাঠে নামান।

এই পরিবর্তনের সুফল পেতেও বেশি দেরি হয়নি। ৭৭ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা এক দ্রুতগতির ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় মার্কো পাশালিচ নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের সমীকরণ একদম স্পষ্ট। চেক প্রজাতন্ত্র কৌশলগতভাবে দারুণ লড়াই করলেও ম্যাচ বের করে নেওয়ার মতো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। উল্টো দিকে, নিখুঁত ফিনিশিং এবং সঠিক সময়ে খেলোয়াড় বদলের ট্যাকটিকাল সিদ্ধান্তই প্রাগের রাতে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলের জয় ও পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link