উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয় অর্ধে লুইস দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন ও ইন গেম ম্যানেজমেন্টের প্রদর্শনীতে এই জয় ছিনিয়ে নেয় লা রোখারা।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই স্পেনকে লিড এনে দেন লামিনে ইয়াম। স্পেনের ৪-২-৩-১ ফর্মেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাঠের দুই প্রান্ত প্রসারিত করে খেলা। ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল এবং বামে নিকো উইলিয়ামস ইংল্যান্ডের ফুলব্যাকদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। বাম উইং থেকে ফ্লুইড পাসে তৈরি হওয়া ওভারলোড এবং প্রতিপক্ষের হাফ স্পেস ফাঁকা পাওয়ার সুযোগ নিয়েই ইয়ামাল গোলটি আদায় করেন।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইংল্যান্ড মূলত হাই প্রেসিং নীতি গ্রহণ করে। থমাস টুখেলের ইংলিশ দল ৪-২-৩-১ ব্লকে রূপ নিয়ে স্পেনের রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের মধ্যকার পাসিং লাইন ব্লক করতে শুরু করে। জুড বেলিংহামকে প্রথাগত নাম্বার টেন রোলে রাখা হলেও তিনি মাঝমাঠে ফ্রি রোলে খেলেছেন।

স্পেনের হাই লাইন ডিফেন্সের পেছনে থাকা ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে তিনি অ্যান্থনি গর্ডন এবং হ্যারি কেনের জন্য একাধিক কাউন্টার অ্যাটাকিং সুযোগ তৈরি করেন। ৩৫ ও ৩৯ মিনিটে ইংল্যান্ডের দুটি গোলই এসেছে স্পেনের বিল্ড আপের ভুল সুযোগ নিয়ে দ্রুত ট্রানজিশন এবং প্রেসিংয়ের পর তৈরি হওয়া কাউন্টার অ্যাটাক থেকে।
তবে দ্বিতীয় অর্ধের ৫৩তম মিনিটে হ্যারি কেনের পেনাল্টি মিস ম্যাচটির ট্যাকটিক্যাল মোমেন্টাম পুরোপুরি বদলে দেয়। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরই স্পেন মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
লুইস দে লা ফুয়েন্তে দ্বিতীয় অর্ধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন আনেন। মাঝমাঠে দানি ওলমোর জায়গায় আলেক্স বায়েনাকে এনে স্পেন ইংল্যান্ডের উইং-ব্লককে ভেঙে দেয়। বায়েনা মাঝমাঠের হাফ স্পেসে ফ্রি প্লেয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

পাশাপাশি মিকেল ওয়ারজাবালকেও নামানো হয়, যা ইংল্যান্ডের ক্লান্ত ডিফেন্স লাইনকে প্রতিনিয়ত চাপের মুখে ফেলে। ৬০ মিনিটে বায়েনার সমতাসূচক গোল এবং ৭৪ মিনিটে বায়েনা-ওয়ারজাবাল জুটির তৈরি জাদুকরী যৌথ প্রয়াসে স্পেন জয়সূচক তৃতীয় গোলটি আদায় করে।
ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের পাওয়ার ফুটবল ও ডায়রেক্ট কাউন্টার অ্যাটাকিং কৌশলের ওপর স্পেনের পজেশনাল প্লে ও সাবস্টিটিউটদের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়। ইংলিশ প্রেসিং প্রথমার্ধে সফল হলেও দ্বিতীয় অর্ধে স্পেনের শর্ট পাসের টেম্পো নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা এবং সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্তে পেনাল্টি মিসই ইংল্যান্ডের হারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।











