একই গল্পের পুনরাবৃত্তি, বারবার। দারুণ শুরু, তারপর সেই চেনা পতন। জোহানেসবার্গে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই যেন একই চিত্রনাট্য অনুসরণ করল অস্ট্রেলিয়া, আর তাতেই এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খুইয়ে বসল তারা।
প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মিশেল মার্শের ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছিল অজিরা, পাওয়ার প্লেতেই উঠে গিয়েছিল ৯০ রান। কিন্তু সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বড় ইনিংস গড়ার কাজটা করতে পারেননি মিডল অর্ডারের কেউই। শেষদিকে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত পথ হারিয়েছে গোটা ইনিংসই।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে চিত্রটা যেন আরও নাটকীয়। ওয়ান্ডারার্সে আজ ছিল পিংক ডে, ক্যান্সার সচেতনতার বার্তা নিয়ে গোলাপি সাজে সেজেছিল পুরো মাঠ। সেই রঙিন আবহেই সাউথ আফ্রিকার ৩৬৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের জবাবে নেমে আবারও দুর্দান্ত শুরু, মিশেল মার্শ আর ট্রাভিস হেডের ব্যাটে উঠল ১৩০ রানের ওপেনিং জুটি। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এই ম্যাচ হেসেখেলেই জিতে নেবে অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু ওপেনিং জুটি ভাঙতেই আবারও সেই পুরনো রোগ ফিরে এলো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকল নিয়মিত বিরতিতে, আর মিডল অর্ডারে কেউই দাঁড়াতে পারলেন না উইকেটে। ইনিংসটাকে টেনে নিয়ে বড় করার মতো, দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ নেই এই লাইনআপে, স্টিভ স্মিথ অবসর নেওয়ার পর থেকে এই শূন্যতাই যেন বারবার ফুটে উঠছে প্রতিটি ম্যাচে।
শেষদিকে জেভিয়ার বার্টলেট নেমে চেষ্টা করেছিলেন ঝড় তোলার, মাত্র ২৪ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি, পাঁচটি ছক্কা আর দুটি চারে সাজানো এক ইনিংস। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ হাতের মুঠো থেকে অনেকটাই বেরিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস, ৩২ রানের হার নিয়ে টানা দুই হারে সিরিজ খোয়ালো সফরকারিরা।
দুই ম্যাচ মিলিয়ে একটা প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে। টপ অর্ডার রান পাচ্ছে, ভালো শুরুও মিলছে, কিন্তু ইনিংসটাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কাজটা মিডল অর্ডারে করার মতো কেউ নেই। স্টিভ স্মিথ অবসর নেওয়ার পর থেকে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা যেন এখনও পূরণ হয়নি। ম্যাচ শেষ করে আনার মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের অভাব প্রতিটি ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, আর তার মাশুল দিতে হচ্ছে দলকেও।












