কোহলির অবিশ্বাস্য ইনিংসে আবারও স্তব্ধ ক্রিকেট বিশ্ব!

কিছু মানুষের সামনে শুধু মাথা নতই করতে হয়। তাঁরা যখন ব্যাট হাতে দাঁড়ান, ক্রিকেট তখন আর শুধু খেলা থাকে না, একটা এক্সিবিশন, একজন খেয়ালি শিল্পীর তুলির আঁচড়, খানিকটা উন্মাদনা, প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধামাখা হাহাকার, দর্শকদের মন পাগল করা উচ্ছ্বাস, সব যেন মিলে এক বিন্দুতে, এক মূহুর্তে।

কিছু মানুষের সামনে শুধু মাথা নতই করতে হয়। তাঁরা যখন ব্যাট হাতে দাঁড়ান, ক্রিকেট তখন আর শুধু খেলা থাকে না, একটা এক্সিবিশন, একজন খেয়ালি শিল্পীর তুলির আঁচড়, খানিকটা উন্মাদনা, প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধামাখা হাহাকার, দর্শকদের মন পাগল করা উচ্ছ্বাস, সব যেন মিলে এক বিন্দুতে, এক মূহুর্তে।

থিরুভানান্তাপুরামে বিরাট কোহলি সেই আবহই ফিরিয়ে আনলেন আরো একবার। ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯, ১০ চার, ৯ ছক্কা। ভারতকে জিতিয়ে তবেই ফিরেছেন।কিন্তু সেই শেষ দৃশ্যের অনেক আগেই ইতিহাসের দরজায় কড়া নেড়ে ফেলেছিলেন তিনি।

১৫,০০০ রান! ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান! এই মাইলফলকের ওপারে দাঁড়িয়ে আছেন কেবল একজন, শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু দ্রুততার প্রশ্নে আজ শচীনের সামনেও নতুন একটা নাম লিখে গেলেন কোহলি।

শচীনের লেগেছিল ৩৭৭ ইনিংস। কোহলি পূর্ণ করলেন মাত্র ৩০৩ ইনিংসে।

ইতিহাসের একটা দরজা খুলে গেল। কিন্তু বিরাট কোহলির জন্য ইতিহাসের সেই দরজাটা ছিল যেন কেবল আরেকটা দরজা। স্কোরবোর্ডে কোহলির নামের পাশে রান বাড়তে বাড়তে পৌঁছাল ৯২।আলঝারি জোসেফের শর্ট বল গিয়ে আঘাত করল কোহলির হেলমেটে। হঠাৎ থেমে গেল থিরুভানান্তাপুরাম। ফিজিও ছুটে এলেন। কনকাশন চেক করা বাধ্যতামূলক।

কোহলির সামনে আঙুল তুলে নিয়মমাফিক প্রশ্ন করেছেন, কি দেখতে পাচ্ছো? কোহলি কি উত্তর দিয়েছিলেন, জানার উপায় নেই।হয়ত বল দেখছিলেন, হয়ত গ্যালারি কিংবা আলঝারি জোসেফকে। চাইলে স্রেফ একটা উত্তরও দিতে পারেন, ৫৫।

সেই মুহূর্তে তাঁর ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল মাত্র আট রান দূরে। ৫৫ তম সেঞ্চুরি এলো, ছক্কা হাকিয়েই এলো, যেমনভাবে ছক্কাতেই মিলেছিল ফিফটির দেখা।

বিরাট কোহলির ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তিনি ব্যাট তুললেন, গ্যালারি দাঁড়িয়ে গেল। কোহলির ক্যারিয়ারজুড়ে যত শতরান এসেছে, তার অনেকগুলো এসেছে তাঁর চেনা পথে, মাটিতে ব্যাট নামিয়ে, ফাঁক খুঁজে, দৌড়ে, ঘাম ঝরিয়ে। আজ যেন এলো ঝড় হয়ে, বাধ ভেঙে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং লাইন আপকে ভাসিয়ে নিয়ে।

কিন্তু এই দৃশ্যের মধ্যেও একটা অদ্ভুত শান্তি। যেন তিনি জানেন, এই জায়গাটা তাঁর অচেনা নয়। এই রাজ্যে তিনি বহুবার এসেছেন। শুধু আজকের দিনটায় রাজ্যের সীমানা একটু বড় হয়েছে। ১৫,০০০ রান, ৫৫তম শতরান, দুটো মাইলফলক একই ইনিংসে।তারপরও থামলেন না। শতরান পেরিয়ে রান গেল আরও দূরে। চার, ছক্কা, তারপর আরেকটা ছক্কা।

কিছু মানুষ রেকর্ড ভাঙেন, কিছু মানুষ রেকর্ডকে নতুন অর্থ দেন। বিরাট কোহলির গল্পটা সম্ভবত দ্বিতীয়টার।

১৫,০০০ রান তাঁর কাছে শুধু একটা সংখ্যা নয়। ৫৫তম সেঞ্চুরিও শুধু আরেকটা শতরান নয়। এগুলো সেই দীর্ঘ পথের মাইলফলক, যে পথে একসময় শচীন টেন্ডুলকার হেঁটেছিলেন। আজ সেই পথেই আরেকজন দাঁড়িয়ে আছেন।একজন কিংবদন্তির ছায়ার ঠিক পেছনে। কিন্তু নিজের ছায়াটাও এতটাই দীর্ঘ করে ফেলেছেন যে, ইতিহাস এখন দুজনকে পাশাপাশি রেখে গল্প বলতে বাধ্য।

থিরুভানান্তাপুরামের রাত নেমে আসে। ম্যাচ শেষ, আলো জ্বলছে।গ্যালারি ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে।

আর মাঠের কোথাও পড়ে আছে আজকের গল্পের কয়েকটি ছবি, একটি হেলমেটে আঘাত করা বল।১৫,০০০ রান, ৫৫তম সেঞ্চুরি, তারপর স্কোরবোর্ডে অপরাজিত ১৩৯।

কোহলি মাঠ ছাড়ছেন। হয়ত একদিন তিনিও চলে যাবেন। সব রাজাকেই একদিন সিংহাসন ছাড়তে হয়।

কিন্তু আজ নয়। আজ রাজা ব্যাট হাতে ছিলেন। আর রাজা যখন ব্যাট হাতে থাকেন!

লেখক পরিচিতি

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

Share via
Copy link