উয়েফা নেশনস লিগের মহারণে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। লা রোখাদের এই তাণ্ডব শুধুই চারটি গোলের গল্প নয়। এটি ছিল কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত স্ট্র্যাটেজি, ক্ষিপ্র গতি আর আধুনিক ফুটবলের এক কিলার মাস্টারক্লাস, যার সামনে দাঁড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে মনে হয়েছে একেবারেই দিশেহারা।
ম্যাচের সুর বাঁধা হয়ে গিয়েছিল প্রথম বাঁশি বাজার সাথে সাথেই। ৪-৩-৩ ফর্মেশনের আড়ালে স্পেনের মূল পরিকল্পনা ছিল দুই ডান ও বাম উইংকে ব্যবহার করে ক্রোয়েশিয়ার ফুলব্যাকদের ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করা।
স্প্যানিশ মধ্যমাঠের খেলোয়াড়রা মাঝমাঠে বল ধরে রেখে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সকে সংকুচিত হতে বাধ্য করতেন, আর ঠিক পর মুহূর্তেই পিনপয়েন্ট লং পাসে বল বাড়িয়ে দিতেন দুই উইঙ্গার।

এর ফলে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডাররা বারবার ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে পড়ে যান। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই ইয়ামাল যখন বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে পেছনে ফেলে দারুণ এক শটে গোল করেন, তখনই প্রমাণিত হয় স্পেনের এই আইসোলেশন স্ট্র্যাটেজি কতটা বিধ্বংসী ছিল।
জয়ের ব্যবধান এতটা বিশাল হওয়ার পেছনে স্পেনের হাই প্রেসিং খেলার ধরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্রোয়েশিয়া যখনই নিজেদের বক্সের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবে আক্রমণ গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে, স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছেন। বল দখলের পর স্পেন কোনো বাড়তি পাস না খেলে দ্রুততম সময়ে সরাসরি প্রতিপক্ষের ফাইনাল থার্ডে ঢুকে পড়ে।
প্রথমার্ধের ২৮ মিনিটে ইভান পেরিসিচের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ডিওন বেলজো ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর স্বস্তি দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলা কাজে লাগিয়ে মার্ক পুবিল গোল করলে স্পেন পুনরায় ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়।

ম্যাচের অন্তিম পর্বে যখন ক্রোয়েশিয়ার সমতায় ফেরার ক্ষীণ আশা ছিল, ঠিক তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নেমে কৌশলগত চাল চেলে দেন পেদ্রি। প্রতিপক্ষের হাফ স্পেসগুলো নিখুঁতভাবে ব্যবহার করে পেদ্রি ম্যাচের মোড় পুরোপুরি স্পেনের দিকে ঘুরিয়ে দেন।
ট্যাকটিক্যালি ক্রোয়েশিয়া এই ম্যাচে পরাস্ত হয়েছে তাদের ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনের ভয়াবহ ধীরগতির কারণে। স্প্যানিশ আক্রমণের যে গতি ছিল, তার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে তাদের ৪-৩-৩ ডিফেন্সিভ ব্লক বারবার ভেঙে পড়েছে। ফলাফলস্বরূপ রক্ষণভাগে তৈরি হওয়া বিশাল ফাঁকা জায়গাগুলো নির্দয়ভাবে কাজে লাগিয়েছেন ইয়ামাল-উইলিয়ামসরা।











