হৃদয় কে নিয়ে মধুর যন্ত্রনায় টিম ম্যানেজমেন্ট!

সাউথ আফ্রিকার সেই দিনটা বাংলাদেশের ক্রিকেট বহুদিন মনে রাখবে। ৩৭ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে নেমে তাওহীদ হৃদয় ফিরলেন ৪৮১ বল খেলে ২৭ চার আর ১০ ছক্কায় অপরাজিত ৩৫০ নিয়ে, আর সংখ্যাটা যতটা বড়, তার ওজন তার চেয়েও ভারী।

সাউথ আফ্রিকার সেই দিনটা বাংলাদেশের ক্রিকেট বহুদিন মনে রাখবে। ৩৭ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে নেমে তাওহীদ হৃদয় ফিরলেন ৪৮১ বল খেলে ২৭ চার আর ১০ ছক্কায় অপরাজিত ৩৫০ নিয়ে, আর সংখ্যাটা যতটা বড়, তার ওজন তার চেয়েও ভারী।

এই ইনিংসে তিনি পেছনে ফেলেছেন তামিম ইকবালের ২০২০ সালের ৩৩৪ আর রাকিবুল হাসানের ২০০৭ সালের ৩১৩ রানকে। বিদেশের মাটিতে ফার্স্ট ক্লাসে ত্রিশতক করা প্রথম বাংলাদেশি তিনি, আর দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো বিদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোরও এখন তাঁর নামে, যেখানে এর আগে বিদেশিদের মধ্যে তিনশোর বেশি রান ছিল কেবল ডেনিস কম্পটনের, সেই ১৯৪৮ সালে।

আমরা এতদিন হৃদয়কে চিনতাম অন্যভাবে।সাদা বলে দলের মিডল অর্ডারে ভরসা হয়েই ছিলেন তিনি, শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ,পাকিস্তান প্রিমিয়ার লীগ থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত এটাই ছিল তাঁর পরিচয়। এই ম্যাচের আগে তাঁর ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ ছিল মাত্র ১৭টি, আর লোকে তাঁকে সীমিত ওভারের ব্যাটারই ভাবত।

সাউথ আফ্রিকায় সেই ধারণাটা ভেঙে গেল, ধৈর্য ধরে থিতু হয়ে কিভাবেন রান নিতে হয় সেটা হৃদয় জানেন, সেইটাই বুঝিয়েছেন তিনি অথচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকটা ভালো হয়নি, বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি, আর তার পরই দলের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। তাই ৩৫০ রান হৃদয়ের নিজের সামর্থ্য বোঝানো আর দলে জায়গা পাওয়ার মত কামব্যাক ইনিংসও ছিলো।

এমন পারফরম্যান্সের পর একাদশে জায়গা পাওয়াই তাঁর প্রাপ্য, কারণ আসল পরীক্ষাটা তো সেখানেই। কিন্তু প্রশ্নটা ঠিক এখানেই, এই একটা জায়গায় টিম ম্যানেজমেন্ট পড়বে মধুর যন্ত্রনায়,  তিনি খেলবেন কোথায়?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে, আর সেই দলে হৃদয় ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক আর লিটন দাসের পাশে।

মুশফিক আর মুমিনুল এখন কেবল টেস্ট ফরম্যাটেই খেলেন, বাকি ফরম্যাটে জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন তরুণদের জন্য, ফলে টেস্টে তাঁদের বাদ দিয়ে মিডল অর্ডার সাজানো সহজ কথা নয়। অথচ হৃদয় ব্যাট করেন ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে এই দুজনের বসবাস। ফর্মে থাকা ব্যাটারকে বাইরে রাখা যেমন অন্যায়, অভিজ্ঞদের ভরসা ছেড়ে দেওয়াও তেমনই ঝুঁকির। তবে সুবিধাও একটা আছে, খেলাটা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, আফগানিস্থান এর বিপক্ষে আর এটা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। পয়েন্ট যেখানে ঝুঁকিতে নেই, সেখানে নতুন কাউকে পরখ করার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে?

কারণ সামনে যা আছে, সেটা সত্যিই বড় পরীক্ষা বাংলাদেশের জন্যে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের রাস্তায় এখনোও আছে, সিরিজটা শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে, আর নভেম্বরে অপেক্ষা করছে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টের সফর, প্রতিপক্ষ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নরা। সেই কন্ডিশনে ৪৮১ বল টিকে থাকার অভিজ্ঞতা সামনের সফরে কাজে লাগতেই পারে। তবু হৃদয়ের জায়গা হবে কিনা, সেটা এখন আর তাঁর হাতে নেই, যা করার ছিল তিনি করে দেখিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, টিম ম্যানেজমেন্ট এই সুযোগে সাহস দেখাবে, নাকি পুরোনো ভরসার হাতেই ফিরে যাবে? সিদ্ধান্ত যেটাই হোক, ৩৫০ করার পরও যাকে বাইরে বসে থাকতে হয়, তার জন্য মায়া হয় বৈকি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link