পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের!

২০২৬ এশিয়ান এশিয়ান গেমস আর বৃষ্টি যেন এক সুরেই চলছিল এবার, প্রায় প্রতি ম্যাচে শঙ্কা থাকে খেলা হবে কিনা, প্রথম সেমিতেও সেইটাই ছিল, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি এড়িয়ে মাঠে খেলা হলো ঠিকই, কিন্তু ফাইনালের টিকিট কাটা হলো না বাংলাদেশের। ১৩ ওভারের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াই থেকে ছিটকে গেল দলটা

২০২৬ এশিয়ান এশিয়ান গেমস আর বৃষ্টি যেন এক সুরেই চলছিল এবার, প্রায় প্রতি ম্যাচে শঙ্কা থাকে খেলা হবে কিনা, প্রথম সেমিতেও সেইটাই ছিল, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি এড়িয়ে মাঠে খেলা হলো ঠিকই, কিন্তু ফাইনালের টিকিট কাটা হলো না বাংলাদেশের। ১৩ ওভারের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াই থেকে ছিটকে গেল দলটা।

কোয়ার্টার ফাইনালে সবার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচও ভেসে গিয়েছিল, র‍্যাংকিংয়ের জোরে উঠে এসেছিল সেমিফাইনালে। শঙ্কাটা ছিল এই ম্যাচ নিয়েই, এটাও ভেসে গেলে একই নিয়মে ফাইনালে যেত পাকিস্তান, আর বাংলাদেশকে খেলতে হতো তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচ। তাই বাংলাদেশ চেয়েছিল মাঠেই জিততে। ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ নেমে এল ১৩ ওভারে, আর এমন খেলায় শুরু থেকেই রান তোলার ইচ্ছা দরকার ছিল। ব্যাটাররা আগ্রাসী হতে চাইলেন, কিন্তু রানের চেয়ে বেশি এল উইকেট। ইমন ফিরলেন ১ রানে, লিটন ২ রানে। সাইফ হাসানের ১৯ আর তাওহিদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস ছাড়া বাকিরা তেমন কিছুই করতে পারলেন না। ইনিংস থামল ১১১ রানে।

জবাবে পাকিস্তানও নামল একই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে দিলেন মেহেদী হাসান, হৃদয় মিড অন থেকে পেছনে দৌড়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন। কিন্তু উইকেট পড়লেও বাউন্ডারি থামল না। মাজ সাদাকাত নাসুম আহমেদকে ছক্কা হাঁকালেন, সাইম আইয়ুব মুস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে দুটি ছক্কা আর একটি চারে তুলে নিলেন ১৮ রান। চার উইকেট হারিয়েও পাকিস্তানের জন্য ১১২ রানের লক্ষ্যটা কঠিন হয়ে উঠল না।

ম্যাচের মোড় ঘুরে গেল ১০ নম্বর ওভারে। মুস্তাফিজকে পেয়ে বসলেন আবদুল সামাদ, এক ওভারেই এল ২৩ রান। একটা ছক্কার পর টানা চারটি চার, খেলাটা ওখানেই প্রায় শেষ হয়ে গেল। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে সামাদের ৫৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে বের করে দিল। রিশাদ হোসেন আর মেহেদী কিছুটা চাপ ধরে রেখেছিলেন, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। বাংলাদেশের প্রায় সব বোলারই উইকেট পেলেন, তবু রান দিলেন তার চেয়েও বেশি। ৯ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে গেল পাকিস্তান।

এক পর্যায়ে হয়তো মনে হতেই পারে, এমন অল্প রানের লড়াইয়ে হারার চেয়ে বৃষ্টিতে ভেসে র‍্যাংকিংয়ের কারণে বাদ পড়াও ভালো ছিল। অন্তত র‍্যাংকিং আর ভাগ্যকে খানিকটা দোষ দেওয়া যেত। এখন সেই সুযোগটুকুও আর নেই।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link