মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা কেমন হবে, এই প্রশ্নের প্রথম উত্তরটা এল কর্ডোবায়, বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ, আর মেসির অবসরের পরেও প্রথম ম্যাচ। এমন একটা রাতে প্রতিপক্ষ বলিভিয়া হওয়াটা হয়তো স্কালোনির জন্য স্বস্তির ছিল, তবু দলটা যেভাবে খেলল, সেটা শুধু জেতার গল্প না, যেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমান দিলো আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার দাপটের মূল জায়গা ছিল বলের নিয়ন্ত্রণ। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে তারা ১৮টি শট নিয়েছে, ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বলিভিয়ার পাঁচ শটের একটি মাত্র জালের দিকে গেছে, সেটাও একদম শেষ দিকে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ম্যাচটা কতটা একতরফা ছিল। মেসি যে জায়গায় খেলে ম্যাচের গতি ঠিক করে দিতেন, সেই দায়িত্বটা এদিন ভাগ হয়ে গেল কয়েকজনের মধ্যে।
ম্যাক-অ্যালিস্টারের পাসে লাউতারো মার্টিনেজের ১৯ মিনিটের গোলটা এল বক্সের মাঝখান থেকে, আর ১০ মিনিট পর পালাসিওসের মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো লম্বা থ্রু বলে নিকো পাজ গোলকিপারকে পরাস্ত করলেন বাঁ পায়ের হালকা টোকায়। দুটো গোলেই দেখা গেল, বলিভিয়ার রক্ষণ পেছনে অনেকটা জায়গা ছেড়ে রেখেছিল আর আর্জেন্টিনা সেটা কাজে লাগিয়েছে নির্ভুলভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধে গল্পটা আরও পরিষ্কার হলো ৫৪ মিনিটে। পাজের ক্রসে সবার ওপরে উঠে হেড করে গোল করলেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, মেসির অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের ভার পাওয়া ডিফেন্ডারই গোল করে দলকে তিন গোলের লিডে নিয়ে গেলেন, এর চেয়ে মানানসই শুরু হয়তো আর হতো না। গোলের পরই রোমেরো, পাজ আর প্রেস্তিয়ান্নিকে তুলে নিলেন স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার আগে আর্মব্যান্ডটা রোমেরো পরিয়ে দিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে।
বদলি নামা মাস্তানতুনো সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন, যদিও লাউতারো সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ দিকে ম্যানুয়েল লোপেজের একটা গোল অফসাইডে বাতিল হয়, পরের মিনিটেই জটলার ভেতর থেকে বাঁ পায়ের টোকায় তিনি ৪-০ করে দেন। মাস্তানতুনোর জোরাল শট বলিভিয়ার গোলকিপার ঠেকিয়ে না দিলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
মেসি ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করে গেছেন, সেই শূন্যতা একটা ম্যাচে ভরে যাওয়ার কথা না। বলিভিয়ার মতো দলের বিপক্ষে জয় দিয়ে বড় কিছু প্রমাণও হয় না। তবু আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য এমন একটা রাতই দরকার ছিল স্কালোনির দলের। বাকি আছে শুধু ৭ অক্টোবরের বিদায়ী ম্যাচ, যেখানে বেনিনের বিপক্ষে শেষবারের মতো নামবেন মেসি।












