বৈভব সুরিয়াভানশি ক্রিজে নামবেন আর ঝড় উঠবে না, এমন কি কখনো হয়েছে? নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হলো না। সামনে শ্রীলঙ্কা, ওপেনিংয়ে তার সঙ্গী অভিষেক শর্মা। টসে জিতে বোলিং নিয়েছে লঙ্কানরা, আর এই উইকেটে স্পিনারদের হাতেই যে আসল অস্ত্র, সেটা বুঝতে কারো সময় লাগেনি।
প্রথম কয়েকটা বল বৈভব একটু দেখেশুনেই খেললেন। রত্নায়েকের স্পিনে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বল মিস হলো, কাট করতে গিয়ে ব্যাটে লাগল না। তবে ওই পর্যন্তই, প্রথম ওভারের শেষ বলে তুলে মারলেন ডিপ এক্সট্রা কভারের দিকে, দলের প্রথম বাউন্ডারি এল তার ব্যাট থেকেই। এরপর থেমে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রথম ওভারে অভিষেক ছক্কা হাঁকিয়েই ফিরে গেলেন সহান আরাচ্চির হাতে, সঞ্জু স্যামসনও টিকলেন না। ২৪ রানে ২ উইকেট পড়ে গেলে যেকোনো দল দেখেশুনে খেলে। বৈভব উল্টো গিয়ে ধরলেন গতি। বিনুরা ফার্নান্দোর বলে পরপর দুই বলে দুই চার, একটা তো ফ্ল্যাট ব্যাটে সোজা মিড অফের ওপর দিয়ে। ধীর উইকেটে যেখানে ইচ্ছেমতো সোজা ব্যাটে মারা কঠিন, সেখানে এমন শট খেলাটাই বলে দেয় ছেলেটা কোন ধাতুতে গড়া।

চতুর্থ ওভারে রত্নায়েকের ওপর চড়াও হলেন একেবারে। এক ওভারে দুই চার আর এক ছক্কা, তার মধ্যে ওভার লং অনের ওপর দিয়ে সেই ছক্কাটা ছিল দেখার মতো। পরের ওভারে ফার্নান্দোকে আবার ছক্কা। পাওয়ারপ্লেতে ভারত যে ভালো জায়গায় দাঁড়াল, তার পুরো কৃতিত্ব একজনের।
তখন মনে হচ্ছিল, আজ হয়তো পঞ্চাশ পেরিয়েই থামবেন। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে আরাচ্চি আবার ফিরলেন। বৈভব এগিয়ে এসে মারতে গেলেন, অফ স্পিনার বল করলেন চওড়া। ব্যাটের কানায় লেগে বল উড়ে গেল শর্ট থার্ডে, সিনেথ জয়াবর্ধনে নিচু হয়ে তালুবন্দি করলেন। ২১ বলে ৩৮, ছয়টা চার আর দুটো ছক্কা। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৮১।
ফেরার সময় হয়তো একটু আফসোস নিয়েই ফিরলেন। তবে ততক্ষণে কাজটা তিনি করে দিয়েছেন। ভারতের রান তখন ৫৯, শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংস দাঁড়িয়ে গেছে। বাকিটা এখন শ্রেয়াস আইয়ার, ইশান কিষানদের হাতে।












