পাকিস্তানের বিপক্ষে একাই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন তাওহীদ হৃদয়!

বৃষ্টিভেজা সকালে যখন সবাই আটকে যাচ্ছিল, হৃদয় তখন ব্যাট হাতে বলেন সবাই না পারলেও আমি আছি ভরসা হয়ে। 

বাংলাদেশের এই এশিয়ান গেমসটা একরকম বৃষ্টির সঙ্গেই বোঝাপড়া করেই কাটছে। কোয়ার্টার ফাইনালে সবার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচও ভেসে গিয়েছিল, র‍্যাংকিংয়ের জোরে সেমিফাইনালে ওঠা হলো। কিন্তু শঙ্কা ছিল এই ম্যাচ নিয়েই। বৃষ্টিতে ভেসে গেলে একই নিয়মে  র‍্যাংকিং এ এগিয়ে থেকে ফাইনালে যেত পাকিস্তান, আর বাংলাদেশকে খেলতে হতো তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচ।

সকালে টস হলো না ঠিক সময়ে,আউটফিল্ড ভেজা, অপেক্ষা বাড়ছিল, তবে  শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাতিল হলো না, তবে ওভার কমিয়ে আনা হলো  ১৩ ওভারে। ওভার কম মানেই রানের চাপ বেশি, আর সেই চাপেই মারতে গিয়ে একের পর এক ব্যাটার ফিরছিলেন। লিটন দাস বোল্ড হলেন দ্বিতীয় ওভারে, তৃতীয় ওভারে ক্যাচ দিলেন ইমন।

তখনই ক্রিজে এলেন সহ-অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়, আর দায়িত্বটা তুলে নিলেন নিজের কাঁধে। সাইফ হাসানকে নিয়ে ইনিংস টানলেন, সাইফ ফিরে গেলে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে সামলালেন। আবরার আহমেদের বলে ছক্কা, ওয়াসিম জুনিয়রকে লং অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলেন, সুফিয়ান মোকিমকে পাঠালেন ডিপ মিডের ওপর দিয়ে। শেষ দিকে আবরারকে আবার সোজা গ্যালারিতে।

ইনটেনশন ছিল একটাই  বোলারদের লড়াই করার জন্য কিছু একটা করে দিয়ে যেতে হবে।

২৫ বলে ৪২ রান, চারটি ছক্কা আর দুটি চারে সাজানো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত সুফিয়ান মোকিমের বলে ডিপ মিডে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন, কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশের স্কোর একটা লড়ার জায়গায় পৌঁছে গেছে।

বৃষ্টিভেজা সকালে যখন সবাই আটকে যাচ্ছিল, হৃদয় তখন ব্যাট হাতে বলেন সবাই না পারলেও আমি আছি ভরসা হয়ে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link