অষ্টম গোলের কথায় ধরা যাক, ফ্রি থেকে বল ভেসে আসল, ইন্দোনেশিয়ার দুই থেকে তিনজন মাথা ছোঁয়ালেন, তবে বাংলাদেশের কোনো ডিফেন্ডার বলটাকে লাফিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেন না। অনায়াসে বলটাকে জালে জড়ালেন লুক ভিকেরি। ঠিক এক মিনিটের মাথায় কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আরও একখানা গোল। চার গোল করা মিচেল বেকারকে একেবারে আনমার্কড অবস্থায় রাখেন ডিফেন্ডাররা, তিনি নিজের পঞ্চম গোল পূরণ করেন, পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের জালে দেয় নয় গোল। এই যে দুটো চিত্র বললাম, এটাই বাংলাদেশের ফুটবল। একেবারে হতশ্রী দশা যাকে বলে। হামজা চৌধুরী আসায় বাংলাদেশ রাতারাতি বিশ্বমানের হয়ে গেছে—এটা যারা ভেবেছিলেন তারা বোকার স্বর্গে ভাসেন।
কিচ্ছু না, একেবারে কিচ্ছুই এই ম্যাচে ছিল না বাংলাদেশের জন্য। আক্রমণ, রক্ষণ সবখানেই বিভীষিকা। শুরুটা হয় ১১ মিনিট থেকে। মিচেল বেকার উদ্বোধন করেন। এরপর প্রতিটা সেকেন্ডে বাংলাদেশের ১১ জন যেন মাঠ ছেড়ে পালাতে চেয়েছে। লজ্জায় মুখ ঢাকার উপক্রম আরকি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ছয়খানা গোল খেয়ে বসে। বিপরীতে একটা সান্ত্বনা মেলে। তবে পরের হাফটাও কম যন্ত্রণার নয়। ৮৯ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখা গেলেও ৯০ থেকে আরও একবার ঝড় ওঠে বাংলাদেশের জালে, সাত মিনিটের মধ্যে হজম করতে হয় তিনখানা গোল। ব্যস, স্কোরলাইন ৯-২।

যারা ম্যাচ দেখেছেন কিংবা দেখেননি, বাংলাদেশ কতটা বাজে খেলেছে তার নিদর্শন অনায়াসেই এই গোলসংখ্যা বলে দেয়। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে ইন্দোনেশিয়া এসেছে, ডিফেন্ডাররা তাদের সাদরে গ্রহণ করেছেন। কোন প্লেয়ারকে মার্ক করতে হবে, কেউ ফ্রি হলে যে তাকে গার্ড দিতে হবে—এসবের বালাই ছিল না। দু-একটা আক্রমণও যা ছিল তা কেবলই ছন্নছাড়া। দুটো গোল এসেছে এই যা।
দেশের ফুটবলের দশা এমনই। তবে একটা সম্ভাবনার আলো হুট করে আকাশ থেকে নেমেছিল মাটিতে। হামজা-সোমিতদের নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল দল। তবে বালি দিয়ে কি আর ঘর বানানো যায়? দরকার হয় শক্ত ভিতের। যা নেই দেশের ফুটবলে।
সবাই স্বপ্ন দেখেছিল, এই দলটা ভালো কিছু করবে। নামের ভার ততক্ষণে নিজেদের কোর্টে এসে গেছে। সেটা দিয়েই মাঠের ফুটবলে এই দল দাপট দেখাবে। তবে বাস্তবতা আর অলীক স্বপ্নের ফারাক বিশাল। কল্পনাশক্তি দিয়ে গল্প লেখা গেলেও ফুটবল খেলা যায় না। নির্মম সত্য, বাংলাদেশ যেখানে ছিল সেখানেই আছে, হামজারা কেবল বালি দিয়ে একটা ঘর বানাতে চেয়েছিলেন এই যা।

Share via:










