পিছিয়ে থেকেও পর্তুগালের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

উয়েফা নেশনস লিগে ঘরের মাঠ এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচের শেষ ভাগে দশ জনের দলে পরিণত হলেও অভিজ্ঞতার ঝুলিকে কাজে লাগিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে জর্জ জেসুসের  শিষ্যরা। 

উয়েফা নেশনস লিগে ঘরের মাঠ এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচের শেষ ভাগে দশ জনের দলে পরিণত হলেও অভিজ্ঞতার ঝুলিকে কাজে লাগিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে জর্জ জেসুসের  শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল ৪-১-৩-২ পজিশনাল অ্যাপ্রোচে মাঠ দখল করে খেলতে শুরু করে। জোয়াও কান্সেলো ইনভার্টেড ফুলব্যাক হিসেবে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে উঠে এসে ওভারলোড তৈরি করার চেষ্টা চালান। অন্যদিকে নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন সাজিয়েছিলেন ৪-২-৩-২ ব্লকে একটি জমাট লো-ব্লক ডিফেন্স।

​নরওয়েজিয়ানদের প্রধান ট্যাকটিকাল পরিকল্পনা ছিল পর্তুগালকে বল পজেশন দিয়ে উইং ও মিডফিল্ডে প্রেসিং ট্র্যাপে ফেলা এবং বল জয়ের সাথে সাথে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের কম্বিনেশন ব্যবহার করা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ঠিক এই কৌশলেই সাফল্য পায় নরওয়ে। ডিফেন্সিভ থার্ড থেকে ওডেগার্ডের নিখুঁত থ্রু বল খুঁজে নেয় উইং ধরে ওঠা আজেরকে, যিনি ক্লিনিকাল ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন।

গোল খাওয়ার পরেই পর্তুগাল তাদের আক্রমণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। উইং ধরে ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও বার্নার্দো সিলভা নরওয়ের উইংব্যাকদের টেনে এনে স্পেস তৈরি করতে থাকেন। ৩৭ মিনিটে কান্সেলোর সমতাসূচক গোলটি ছিল পর্তুগালের ট্যাকটিকাল অ্যাডজাস্টমেন্টের সরাসরি ফসল।

​দ্বিতীয় অর্ধে নরওয়ের মিডফিল্ডাররা শারীরিক দিক থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়লে পর্তুগাল পজেশনের হার প্রায় ৬০ শতাংশে উন্নীত করে। উইংজুড়ে একের পর এক ক্রস ও হাফ স্পেসের ক্রিয়েটিভিটিতে নরওয়ের ফাইনাল থার্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

​ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিহীন পর্তুগালের শুরুর একাদশে স্বাভাবিকভাবেই নয় নম্বর পজিশনের দায়িত্ব পান গনসালো রামোস। শুরু থেকেই নরওয়ের দুই সেন্টার ব্যাককে ব্যস্ত রেখে বক্সে স্পেস তৈরির কাজ করছিলেন তিনি। অবশেষে ৭৮ মিনিটে তার কৌশলগত পজিশনিংয়ের সুফল পায় পর্তুগাল। বক্সে নরওয়ের ডিফেন্ডারদের ভুল পজিশনিংয়ের সুযোগ নিয়ে জোরালো শটে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন রামোস।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ফ্রান্সিস্কো কোনসেইসাও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচে আবারও নাটকীয়তা ফিরে আসে। এক গোলে পিছিয়ে থাকা নরওয়ে শেষ মুহূর্তে অলআউট অ্যাটাকে যায়। তবে নরওয়ের বড় ভুল ছিল – তারা উইং থেকে ক্রমাগত হাই-ক্রস মেরে পর্তুগালের বক্সে বল পাঠানোর চেষ্টা করেছে, যেখানে রুবেন দিয়াস ও রেনাতো ভেইগার সেন্টার ব্যাক জুটি অ্যারিয়াল ডুয়েলে শক্ত অবস্থানে ছিল।

​পর্তুগাল লো ব্লকে নেমে এসে দশ জন নিয়েও বক্সের চারপাশ সুরক্ষিত রাখে। ওডেগার্ডকে শক্ত মার্কিংয়ে রাখায় তিনি স্ট্রাইকারের জন্য কোনো কার্যকর পেনিট্রেটিং পাস তৈরি করতে পারেননি। ফলে গোলের সেরা সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় নরওয়েকে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link