উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জার্মান মেশিনকে ০-০ গোলে আটকে দিয়েছে গ্রিস। থেসালোনিকির তুম্বা স্টেডিয়ামে বল দখল ও আক্রমণের তীব্রতায় জার্মানি একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও, ট্যাকটিকাল ডিসিপ্লিন এবং জমাট প্রতিরক্ষার জোরে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই গ্রিক কোচ মাঠের ফাইনাল থার্ডে ৪-৪-২ বা ক্ষেত্রবিশেষে ৫-৪-১ শেপে একটি লো-ব্লক ডিফেন্স গড়ে তোলেন। জার্মানির আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারদের জন্য হাফ-স্পেস এলাকাগুলোতে কোনো ফাঁকা জায়গা রাখা হয়নি।
উইং ব্যাক ও সেন্টার ব্যাকদের মধ্যে দূরত্ব একেবারেই কম থাকায় জার্মানি তাদের চারিত্রিক থ্রু-পাস বা পেনিট্রেটিং পাস দিতে বারবার ব্যর্থ হয়। এছাড়া জার্মানি বক্সে বল পাঠালেই তিন থেকে চারজন গ্রিক ডিফেন্ডার একযোগে পজিশন ব্লক করে ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করেছেন।

ম্যাচের ৭০ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখে জার্মানি মূলত উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছে। দুই ফুলব্যাক উঁচুতে উঠে আক্রমণকে প্রশস্ত করেন, যাতে গ্রিসের লো-ব্লক কিছুটা প্রসারিত হয়। জার্মানি মোট ২১টি শট নিলেও তার বড় অংশই এসেছে ডিবক্সের বাইরে থেকে অথবা গ্রিক ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিসের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার এরিয়াল বলে আধিপত্য রাখায় জার্মানির ক্রসভিত্তিক অ্যাপ্রোচ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।
গ্রিসের মূল লক্ষ্যই ছিল বল পুনরুদ্ধার করে দ্রুত প্রতিআক্রমণে যাওয়া। তারা নিজস্ব বক্সে বল রিকভারি করে সরাসরি উইং দিয়ে লং বল ট্রানজিশনে মোড় নিত। যদিও স্বাগতিকরা বল পজেশনে মাত্র ৩০ শতাংশ সফল ছিল, তাদের কাউন্টার-অ্যাটাকগুলো জার্মানির হাই-লাইন ডিফেন্সকে কয়েকবার বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল।
ইয়ুর্গেন ক্লপ জার্মানিকে ৪-৪-২ ফর্মেশন থেকে বিল্ড-আপের সময়ে ৩-২-৫ শেপে রূপান্তরিত হয়ে পজেশনভিত্তিক অ্যাটাকিং ফুটবলের নির্দেশ দেয়। তবে তাদের হাই প্রেস এবং হাই লাইন ডিফেন্সের বিপক্ষে গ্রিস ৪-৫-১ শেপের টাইট লো-ব্লক এবং দ্রুত ডিরেক্ট কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর জোর দিয়েছিল।

জার্মানি ম্যাচে কৌশলগত আধিপত্য ধরে রাখলেও প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্সিভ দেয়াল গ্রিক গোলরক্ষক কনস্টান্টিনোস জোলাকিসের দুর্দান্ত সব সেভে ভাঙতে পারেনি। ফলে শক্তি ও পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জার্মানিকে, আর সঠিক কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট অর্জন করেছে গ্রিস।











