উয়েফা নেশনস লিগে ঘরের মাঠ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের সুনিয়ন্ত্রিত পজেশনাল গেম, উইং দিয়ে ওভারল্যাপিং আক্রমণ এবং হাই-প্রেসিং কৌশলের সামনে চেক ডিফেন্স লাইন একেবারেই ভেঙে পড়ে। হ্যারি কেনের জোড়া গোল এবং চেক ডিফেন্ডার কৌফালের আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত করে কোচ থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
ইংল্যান্ড আজ মাঠের দখল নেয় ৪-২-৩-১ ফরমেশনে। তবে ইন-পজেশন ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড ভেতরের দিকে চলে এসে ‘ইনভার্টেড ফুল-ব্যাক’ হিসেবে মিডফিল্ডে জুড বেলিংহাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের সাথে অতিরিক্ত প্লে-মেকারের ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে চেক প্রজাতন্ত্র মধ্যমাঠে বারবার সংখ্যাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। উইং দিয়ে লুইস কিরান হল এবং এসেরেশি এজের দ্রুতগতির রান চেক ডিফেন্সকে চওড়া করে ফেলে, যার সুবিধা পান হ্যারি কেন।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে আসা প্রথম গোলটি ছিল ইংল্যান্ডের নিখুঁত প্রেসিংয়ের ফসল। চেক বক্সের সামনে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন কৌফাল, এবং ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের চাপে ভুল করে বসে নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন।

এরপর ৪০ ও ৫৭ মিনিটে কেইনের জোড়া গোল আসে ইংল্যান্ডের দ্রুত কাউন্টার-প্রেসিং এবং চূড়ান্ত ফিনিশিংয়ের সুবাদে। চেক ডিফেন্স লাইনকে ক্রমাগত চাপে রেখে তারা প্রতিপক্ষের ট্রানজিশন গেম সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের পজেশন ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। প্রায় ৯৩ শতাংশ পাস নির্ভুলতার সাথে মিডফিল্ডে ছোট ছোট পাসে বিল্ড-আপ প্লে গড়ে তোলে স্বাগতিকরা। চেক প্রজাতন্ত্রের ৪-২-১-৩ ফরমেশন ডিফেন্সিভ ব্লকে সফল হওয়ার চেষ্টা করলেও, মিডফিল্ড থেকে বেলিংহাম ও মরগান রজার্সের অফ-দ্য-বল রান তাদের ডিফেন্সিভ শেপ নষ্ট করে দেয়।
পুরো ৯০ মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্র ইংল্যান্ডের গোলপোস্টে কোনো অন-টার্গেট শটই নিতে পারেনি। পিকফোর্ডের গোলপোস্টের সামনে চেক ফরোয়ার্ডদের আক্রমণ ছিল অলক্ষ্য ও ধারহীন। টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দলের এই আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাব বিস্তারকারী ফুটবল নেশনস লিগের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য প্রতিপক্ষদের কাছে স্পষ্ট সতর্কবার্তা।












