২১ বলের মধ্যে দুই ওপেনার ফিরে গেছেন, স্কোরবোর্ডে তখন ৩৬ রান আর ১৭২ তাড়া করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়ত ভাবতেই পারে এই ম্যাচ টা এখন নিজেদের করে নেওয়ার সময়! ঠিক তখনই ক্রিজে এলেন অধিনায়ক। অনেক দিন ধরে রানের খরা চলছিল, ব্যাট কথা বলছিল না। সেই শ্রেয়াস আইয়ার প্রথম দুই বলে মোটে এক রান নিয়ে শুরু করলেন, আর তারপর যা হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোধহয় সারা জীবন মনে রাখবে।
পঞ্চম ওভারে রোস্টন চেজকে পয়েন্টের পাশ দিয়ে প্রথম চার। পরের ওভারে শামার জোসেফ ১৪৫ কিমি গতিতে বল করছিলেন, আইয়ার তাঁকে টানা তিন বলে তিনটা চার মেরে বুঝিয়ে দিলেন গতির পরোয়া তিনি করেন না। ইশান কিশানও ছিলেন সমান তালে, কভারের ফাঁক দিয়ে আর পায়ের ওপর থেকে তুলে নেওয়া শটে। দুজনে মিলে এমন খেলছিলেন যেন কোনো বোলারকেই গোনার মধ্যে ধরছেন না।
মাঝখানে একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কপাল পুড়ল। কিশানের শট ফোর্ডের হাতে গিয়েও থার্ড আম্পায়ারের রায়ে আউট হলো না। ক্যারিবিয়ানরা হতবাক এবং হতাশ, সেখান থেকেই যেন ম্যাচটা তাদের হাত থেকে ফসকে গেল।

এরপর শুধুই আইয়ার। মাত্র ৩৬ বলে ৭২, আর ১৩তম ওভারে ম্যাথিউ ফোর্ডকে তুলোধুনো। তিন ছক্কা, এক চারসহ ওই ওভারে উঠল ২৪ রান। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকে এগোলেন, আর ১৪তম ওভারে চেজকে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতক, মাত্র ৪২ বলে। ভারতের ম্যাচ হবে আর কেউ সেঞ্চুরি করবে না, তা কি আর হয়? ওয়ানডে হোক কিংবা টি-টোয়েন্টি, কেউ না কেউ তিন অঙ্কে পৌঁছে যাচ্ছেনই। আজ সেই দায়িত্বটা নিলেন অধিনায়ক নিজে।
ম্যাচের শেষটা অবশ্য একটু ম্যাড়মেড়ে। চেজের বলে একটা সিঙ্গেল, তার সঙ্গে ওভারথ্রো, আর ১৪.৪ ওভারেই ভারত জিতে গেল ৮ উইকেটে, ৩২ বল হাতে রেখে। আইয়ার অপরাজিত রইলেন ১০২ রানে, ১০টি চার আর ৬টি ছক্কায়। ভারতের টানা দশম টি-টোয়েন্টি জয় এল অধিনায়কের এই ইনিংসের হাত ধরেই।











