শেরফান রাদারফোর্ড যখন ক্রিজে এলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস তখন প্রায় ডুবতে বসেছে। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার ঠিক আগে হেটমায়ার রান আউট, পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরলেন পাওয়েল। এক ওভারের ভেতর দুই উইকেট আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪৪। রাদারফোর্ডের প্রথম বলটা অক্ষর প্যাটেলের, ব্যাটের ভেতরের কানা নিয়ে মিডউইকেটে ঠেলে দিলেন। ওইটুকুই, তখনও কেউ জানত না সন্ধ্যাটা তাঁর হতে চলেছে।
একপাশে হোপ তখন একাই লড়ছেন। রাদারফোর্ড এসে তাঁকে একজন সঙ্গ দিলেন, আর রানের গতিও দিলেন বদলে। কুলদীপকে কভারের ওপর দিয়ে ইনসাইড-আউটে মারা প্রথম ছক্কাটা ছিল দেখার মতো, ।ব্যাটের ঝাঁজ টা তুললেন অক্ষরের ওভারে, রিভার্স সুইপে চার, তারপর হাঁটু গেড়ে বসে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা, এক ওভারে উঠল ১৮ রান। ৬৩ রানের জুটিতে দল ১০০ পেরিয়ে গেল, ততক্ষণে মনে হচ্ছিল ২০০ও অসম্ভব নয়।
কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং সারি আজ যেন ঠিক করেই এসেছিল, রাদারফোর্ডকে একা রেখে যাবে। হোপ ফিরলেন, তারপর একে একে চেজ, শেফার্ড, ফোর্ড আর স্প্রিংগার। ২৮ রানে ৫ উইকেট, সবাই যেন ক্রিজে এসে হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে গেল। ঈশান কিষানের সেই পিছলে পড়ে ব্যাকহ্যান্ডে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচটা তো এই ম্যাচের সেরা হয়েই থাকবে। রাদারফোর্ড তখনও দাঁড়িয়ে, হাতে ব্যাট, চোখে জেদ।

শেষ দিকে মায়াঙ্ক যাদবের স্লোয়ারগুলোকে তিনি এমনভাবে পড়লেন, যেন আগে থেকেই জানতেন কোন বলটা আসছে। লেইট কাট, পিছিয়ে গিয়ে পুল, দুটো চার আর পরের ওভারে আর্শদীপকে আরও একটা। ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ হলে ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট তুলে ধরলেন, ওখান থেকে হাততালির জবাবে। হোসেনের সঙ্গে ১৮ বলে ৩৬ রানের ছোট্ট একটা জুটিও গড়লেন।
তারপর মায়াঙ্কেরই ফুলটসে ফ্লিক করতে গিয়ে ধরা পড়লেন ডিপ মিডউইকেটে, নামান ধীরের হাতে। ৩৪ বলে ৫৬, ছয় চার আর তিন ছক্কায়। ফেরার সময় রাগে নিজের প্যাডেই ব্যাট দিয়ে বাড়ি মারছিলেন। রাগটা অবশ্য বোঝা যায়। কারণ তিনি আর হোপ মিলে যা করে দিয়ে গেলেন, বাকিরা মিলে তার অর্ধেকও করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামল ১৭১ রানে, ভারতের সামনে লড়ার মতো একটা লক্ষ্য দাঁড়িয়ে গেল, আর তার পেছনে অনেকটাই ওই একজনের কৃতিত্ব।











