মেসি থামলেও থামছেন না রোনালদো

লিওনেল মেসি যখন পূর্ণ চাঁদের আলো ছড়িয়ে ভালোবাসার সাগরে ভেসে বিদায় নিচ্ছেন, রোনালদো তখনো অমাবস্যার আঁধারে নিজের ইগোর মোমবাতিটা ধরে রাখতে মরিয়া।

লিওনেল মেসি যখন পূর্ণ চাঁদের আলো ছড়িয়ে বিদায় নিলেন, রোনালদো তখনো অমাবস্যার আঁধারে নিজের ইগোর মোমবাতিটা ধরে রাখতে মরিয়া। নেশনস লিগের মূল একাদশে ঠাঁই না পেয়ে শিশুর মতো রাগ করে দল ছেড়ে গেলেন। অথচ এখন আবার জানালেন ‘আমি আরও খেলব’। এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাচ্ছেন না রোনালদো।

মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে আজ পৃথিবীর সব সম্মান, চোখের সামনে সতীর্থদের শ্রদ্ধার অশ্রু। আর রোনালদোর ট্রফিতে যেন জমা হচ্ছে স্রেফ ট্রল আর কটাক্ষের ধুলো। মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় বুদ হয়ে থাকা রোনালদো হয়তো ভুলে গেছেন, নাটকের চরিত্র যত বড়ই হোক না কেন, যবনিকাপাত ভুল সময়ে হলে ক্লাইম্যাক্সটা শেষ পর্যন্ত কৌতুকে পরিণত হয়।

তিনি আজ এক হাজার গোলের এমন এক মোহগ্রস্ত শিকারী, যার কাছে দলের স্বার্থ কিংবা সতীর্থদের শ্রদ্ধা এখন মূল্যহীন। ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা যখন তরুণ রক্তের আত্মপ্রকাশ দেখতে চায়, রোনালদো তখনো বুড়ো হাড়ের জেদে আটকে আছেন।

ডাগআউটে বসে রাজত্ব করার চেয়ে মাঠে নেমে নি:শ্বাসের শেষ বিন্দু দিয়ে গোল চাওয়াটা যদি বীরত্ব হয়, তবে তার এই বিদায়সংকট ফুটবলের ইতিহাসে সেরা রূপকথার বদলে সবচেয়ে বড় প্রহসন হয়েই লেখা থাকবে।

হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার নেশা এতটাই প্রবল যে, দরকার হলে হয়তো হুইলচেয়ারে বসে কিংবা ৪০ গজ দূর থেকে ট্র্যাপ শট খেলে হলেও রোনালদো ম্যাচ খেলে যাবেন! কিন্তু তিনি ভুলে যাচ্ছেন, পরিসংখ্যান মানুষকে খাতার পাতায় বাঁচিয়ে রাখে, আর সঠিক সময়ে আত্মসম্মান নিয়ে সরে দাঁড়ানো মানুষকে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে।

​মেসি চলে গেলেন রাজসিক হাসিতে, সতীর্থদের চোখের মণি হয়ে আর পুরো বিশ্বের অগাধ ভালোবাসা সাথে নিয়ে। আর রোনালদো রয়ে যাচ্ছেন একরাশ ট্রল, মিমস আর বিরক্তির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে। মেসি ফুটবলের পূর্ণতা খুঁজে পেয়ে বিদায় নিশ্চিত করেছেন, আর রোনালদো কেবল না যাওয়ার জেদে নিজের সোনালী অতীতকে একটু একটু করে ধূসর করে চলেছেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link