বিদায়ের দিনেও কার্ড পেলেন মেসি!

কী অদ্ভুত মিল! শুরুটা হয়েছিল রেফারির কার্ডে, শেষটাও রেফারির কার্ডেই। শুধু মানেটা উল্টে গেছে, সেদিন কার্ড ছিল শাস্তি, আজ সম্মান।

নিজের বিদায়ী ম্যাচেও কার্ড দেখলেন লিওনেল মেসি! যাঁরা ম্যাচটা দেখেননি, তাঁরা হয়তো অবাক হবেন। কিন্তু রেফারি সত্যিই কার্ড দিয়েছেন, একটা নয়, লাল আর হলুদ দুটোই। অবশ্য এই কার্ড শাস্তির নয়, ভালোবাসার।

বিদায়ের রাতটা শুরু থেকেই ছিল মেসির। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে তিন গোলেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। নিকোলাস ওটামেন্ডি আর নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করালেন, তারপর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই জালে বল পাঠালেন। ২০৮তম ম্যাচে এসে ১ গোল আর ২ অ্যাসিস্ট। আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে তাঁর হিসাব থেমে রইল ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টে।

প্রীতি ম্যাচটা শেষ হতেই মাঠের সব আলো গিয়ে পড়ল মেসির ওপর। ঠিক তখন তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন চিলির রেফারি ফার্নান্দো ভেখার। হাতে ছিল সেই দুটো কার্ড, যেগুলো দেখলে খেলোয়াড়দের মাথা নিচু হয়ে যায়। আজ সেগুলোই তিনি তুলে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে। কার্ড দুটো যত্ন করে নিজের কাছেই রেখে দিলেন মেসি। সঙ্গে পেলেন ম্যাচের বলটাও।

অথচ কার্ড দিয়েই একদিন শুরু হয়েছিল তাঁর আন্তর্জাতিক গল্প। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচ। বদলি হিসেবে নেমে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন কিশোর মেসি, এমন সময় পেছন থেকে এক ডিফেন্ডার তাঁকে টেনে ধরলেন। সেই টান ছাড়াতে গিয়ে মেসি হাত চালালেন, আর হাতটা গিয়ে লাগল প্রতিপক্ষের মুখে। রেফারি দেরি করলেন না, মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লাল কার্ড। বিষণ্ণ মুখে মাঠ ছাড়তে হলো সেই ছেলেটাকে। কে জানত, এই ছেলেটাই একদিন বিশ্বকাপ হাতে তুলবে!

কী অদ্ভুত মিল! শুরুটা হয়েছিল রেফারির কার্ডে, শেষটাও রেফারির কার্ডেই। শুধু মানেটা উল্টে গেছে, সেদিন কার্ড ছিল শাস্তি, আজ সম্মান। পুরো ক্যারিয়ারে মেসি খেলাটাকে এতটাই শ্রদ্ধা করেছেন যে হলুদ কার্ড দেখেছেন হাতে গোনা কয়েকবার, আর অভিষেকের সেইদিনের পর আর্জেন্টিনার হয়ে  লাল কার্ড দেখেছিলেন আর  মাত্র একবার। বিদায়ের রাতে ভেখার যেন সেই শ্রদ্ধারই জবাব দিলেন।

যে মানুষটাকে থামাতে দুনিয়ার কত ডিফেন্ডার কত কিছু করেছেন, তাঁকেই আজ রেফারি কার্ড দিয়ে সম্মান জানালেন। মাঠ ছাড়ার দিনেও মেসি খালি হাতে ফেরেননি। কার্ড, বল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ফিরলেন। ড্রোন শোতে ভেসে উঠেছিল ‘গ্রাসিয়াস, লিও’। ধন্যবাদ দেওয়ার ছিলই, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিদায় দিতে কি কেউ সত্যিই তৈরি ছিল? মেসি হয়তো মাঠ ছাড়লেন, কিন্তু ফুটবল তাঁকে কখনো ছাড়বে না।

Share via
Copy link