হাসলেন মেসি, কাঁদলেন সবাই

বুয়েন্স আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ঢাকা, দিল্লি কিংবা নিউ ইয়র্কের রাজপথ - পুরো বিশ্ব ডুবে গেল এক নীল-সাদা বেদনায়।

রেফারির শেষ বাঁশিটা যখন বাজল, তখন যেন থমকে গেল পৃথিবীর আহ্নিক গতি। বুয়েন্স আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ঢাকা, দিল্লি কিংবা নিউ ইয়র্কের রাজপথ – পুরো বিশ্ব ডুবে গেল এক নীল-সাদা বেদনায়। যে মানুষটি বিগত দুটি প্রজন্মকে ফুটবল ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, ফুটবলের অপার সুখে ভাসিয়েছেন, তাঁর এই অলৌকিক যাত্রার সমাপ্তিলগ্নে পুরো পৃথিবী যেন এক বিন্দুতে এসে কেঁদে উঠল।

ডাগআউটে বসে ডুকরে কেঁদে উঠলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না জুলিয়ান আলভারেজ। আর সেই ছোট্ট এঞ্জো ফার্নান্দেজ – যিনি একসময় প্রিয় নায়ককে খেলা না ছাড়ার আকুতি জানিয়ে খোলা চিঠি লিখেছিলেন।  প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি, সবাই আজ ফুটবলের এই মহাজাদুকরের সাথে স্মৃতির একটি ফ্রেম বন্দি করতে ব্যাকুল।

গোটা স্টেডিয়ামের আকাশ-বাতাস জুড়ে কেবলই একটি ব্যানার, একটিই ধ্বনি – ‘ধন্যবাদ মেসি’।  কিন্তু যিনি দু’টি প্রজন্মকে অপার আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছেন, তাকে কি আর কেবল ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে শোধ করা যায়?

​সবাই যখন কাঁদছে, তখন মেসি নিজে কাঁদছেন না। বরং নির্মল ও প্রশান্ত এক হাসিতে আড়াল করছেন নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা বিদায়ের করুণ যাতনা। জীবনের বহু শুভলগ্নের মতো আজও তিনি আকাশের পানে চেয়ে রইলেন। হয়তো সৃষ্টিকর্তাকে নিভৃতে বলছেন, ‘সব পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ!’

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সফর নিয়ে অতীতে ফিরে তাকিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে লিও বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম চিরকাল আর্জেন্টিনার সাথে এভাবেই থেকে যেতে, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। কিন্তু এখন বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে’। বিদায় বেলায় ফের বলে গেলেন, আর্জেন্টিনাকে প্রতিনিধিত্ব করাটাই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

​বিগত দুই দশকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে এই ফুটবল ঈশ্বর জানান, তিনি এই নীল-সাদা শার্টের জন্য কখনো হার মানেননি। সবসময় লড়াই করেছেন, নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে আমি আর্জেন্টিনার জন্য আমার সেরাটা দিয়েছি। এই শার্টটাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছুই বাকি নেই। আর্জেন্টিনার জন্য আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি’।

সবুজ গালিচায় নীল-সাদা ক্যানভাসের এই রূপকথা আজ শেষ হলো ঠিকই, তবে মহাকাব্যের তো কখনো মৃত্যু হয় না। তাঁর এই শারীরিক প্রস্থান কেবল এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। আর ফুটবলের অনন্ত আকাশে তিনি রয়ে গেলেন চির ভাস্বর এক ধ্রুবতারা হয়ে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link