অনুজদের আবেগঘন ভালোবাসায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি!

আর্জেন্টিনায় এবার দেখা গেল অন্য এক ছবি। মেসি যাচ্ছেন, আর যাঁরা তাঁর জায়গার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারতেন, তাঁরাই যেন সবচেয়ে বেশি বিষণ্ণ। বিদায়ী ম্যাচের আগে একে একে দেশে পৌঁছাচ্ছিলেন খেলোয়াড়েরা, আর প্রত্যেকের কথাতেই ঘুরেফিরে আসছিল একটাই নাম।

দলের কোনো সিনিয়র খেলোয়াড় যখন বিদায় নেন, বিশেষ করে দশ নম্বর জার্সির মালিক, তখন সেটা অনেক তরুণের কাছে একটা সুযোগের দরজা। ফুটবলের নিয়মই এমন, একজন যায়, আরেকজন তার জার্সিটা গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আর্জেন্টিনায় এবার দেখা গেল অন্য এক ছবি। মেসি যাচ্ছেন, আর যাঁরা তাঁর জায়গার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারতেন, তাঁরাই যেন সবচেয়ে বেশি বিষণ্ণ। বিদায়ী ম্যাচের আগে একে একে দেশে পৌঁছাচ্ছিলেন খেলোয়াড়েরা, আর প্রত্যেকের কথাতেই ঘুরেফিরে আসছিল একটাই নাম।

ফাকুন্দো মেদিনা জানালেন, খবরটা তাঁর কাছে কেমন লেগেছিল। বললেন, “তোমাদের সবার মতোই, এটা আমার কাছে বোমার মতো আঘাত করেছিল।” নিকোলাস ট্যাগলাফিকোর কথায় ছিল দীর্ঘ পথচলার ভার “এই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমরা কাটিয়েছি ২০টি বছর, এটা কঠিন হবে, তবে মেনে নিতেই হবে।” আলেক্সিস ম্যাক এলিস্টার বলতে গিয়ে খুঁজে পেলেন শুধু কৃতজ্ঞতা, “শুধুই কৃতজ্ঞতা, এমন আর কেউ হবে না” আর লাউতারো মার্টিনেজকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো অধিনায়ককে তিনি কী বলবেন, জবাব এল খুব ছোট, “শুধু ধন্যবাদ জানাবো।”

মেসিকে যেন বিদায়ের দিনে একা লাগতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। রদ্রিগো ডি পল আর জিওভানি লো সেলসো এলেন শুধু এই ম্যাচের জন্য। বিশ্বকাপের পর অবসর নেওয়া নিকোলাস ওটামেন্ডিকে ডাকা হলো মেসির পাশে দাঁড়ানোর জন্যই। গ্যালারিতে এসে বসলেন এনজেল ডি মারিয়া। যেন পুরোনো পরিবারের সবাই জড়ো হয়েছে একজনকে ঘর থেকে বিদায় দিতে।

আর মাঠে মেসি সেই ভালোবাসার জবাব দিলেন নিজের মতো করে। ওটামেন্ডির গোলে এসিস্ট করলেন,  গোলের কিছুক্ষণ পর ওটামেন্ডি যখন মাঠ ছাড়লেন, গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানাল, সতীর্থরা হাত মিলিয়ে বিদায় দিলেন। একটা ম্যাচে দুজন কিংবদন্তির বিদায়, আর দুজনেই একে অপরের গল্পের অংশ হয়ে রইলেন। ম্যাচ শেষে মেসি যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা তাঁকে গার্ড অব অনার দিলেন।

অথচ এই ছবিটা সবসময় এমন ছিল না। ২০১৮, ২০১৯ সালের দিকে অনেকেই বলতেন, মেসিকে ঘিরে সাজানো এই দল দিয়ে কখনো বিশ্বকাপ জেতা হবে না। কোচ, ফর্মেশন, সবকিছু নাকি মেসির জন্য, বাকিরা সেখানে জায়গা পায় না। কিন্তু ২০২১ থেকে মাঠে অন্য এক আর্জেন্টিনা দেখা গেল, মেসিকে ফাউল করা হলে ডি পল, মন্টিয়েল, ওটামেন্ডিরা সবার আগে ছুটে যেতেন তাঁকে আগলে রাখতে। যেন মেসি যতটা চেয়েছেন ট্রফি জিততে, সতীর্থরা চেয়েছেন তার চেয়েও বেশি, শুধু মেসির জন্য।

বিদায়ের সময় মেসিও সেটা ভোলেননি। বললেন, “আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা আমাকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে সহায়তা করেছেন।” একজন মানুষ দলকে সবকিছু দিলেন, আর দল ফিরিয়ে দিল তার চেয়েও বেশি ভালোবাসা। ফুটবলে বিদায় বেলায় সতীর্থ ও দেশ থেকে এমন বিদায় নিয়ে যেতেই বা পারে কজন। !

Share via
Copy link