আবু ধাবিতে আফগান ফাঁদ টপকাতে প্রস্তুত শান্ত-মিরাজরা!

সব মিলিয়ে ভারসাম্যটা বাংলাদেশের দিকেই  আছে। ফর্ম, আত্মবিশ্বাস আর অস্ট্রেলিয়া-জয়ের স্মৃতি, তিনটিই তাদের পক্ষে। তবে আফগানরা ঘরের মতো কন্ডিশনে খেলছে, এটা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশের ব্যাটাররা যদি গরমে টিকে থেকে রান তুলতে পারে আর বোলাররা শেষ দিন পর্যন্ত দম ধরে রাখতে পারে, তাহলে আফগানদের টানা তৃতীয় হারের গল্পটাই লেখা হতে পারে।

আগামী ৯ অক্টোবর আবু ধাবিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতে যা বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। আর্দ্রতায় ভরা বাতাস আর ৪০ ডিগ্রি ছাড়ানো তাপমাত্রায় বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচ শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জিং।

শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের এই এক ম্যাচের সিরিজ দুই দলের কাছে দুই রকম অর্থ বহন করে। আফগানদের জন্য এটা হারের বৃত্ত ভাঙার সুযোগ, আর বাংলাদেশের জন্য বড় সিরিজের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ পরীক্ষা।

আফগানিস্তান নামছে চার মাসের বিরতির পর। শেষ টেস্টে ভারতের কাছে ইনিংস আর ৩০০ রানের হার এখনো তাদের তাড়া করছে, আর তার আগের টেস্টটাও তারা হেরেছিল। শেষ পাঁচ টেস্টে জয় মাত্র একটি, শেষ দশে চারটি জয়ের বিপরীতে ছয়টি হার। জয়গুলোর দিকে তাকালে চিত্রটা আরও পরিষ্কার হয়, কারণ চারটির দুটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আর দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পেলে আফগানরা বারবার হোঁচট খেয়েছে। তবে এই মাঠ আর আবহাওয়া তাদের কাছে অপরিচিত নয়, আমিরাতকে তারা প্রায় নিজেদের ঘরের মতোই চেনে, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা একেবারেই উল্টো।

দুই দল টেস্টে এর আগে মুখোমুখি হয়েছে মাত্র দুবার, জিতেছে একবার করে। মজার ব্যাপার হলো, যে জিতেছে সে জিতেছে বড় ব্যবধানে। ২০১৯ সালে আফগানিস্তান জিতেছিল ২২৪ রানে, আর ২০২৩ সালে বাংলাদেশ জিতেছিল ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। এই দুই দলের টেস্টে একজন দাঁড়ালে অন্যজন যেন ধসে পড়ে।

বাংলাদেশ আসছে আত্মবিশ্বাসের ডানায় ভর করে। শেষ দশ টেস্টে ছয় জয়, তিন হার আর এক ড্র। জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান আর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কীর্তি আছে তাদের ঝুলিতে। সবচেয়ে বড় অর্জন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়, ডারউইনে নয় উইকেটের সেই জয়ে তানজিদ হাসান পেয়েছিলেন মাত্র শুরুর সেঞ্চুরি আর মেহেদি হাসান মিরাজ নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় টেস্টে হারলেও সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ ব্যবধানে।

কিন্তু আবু ধাবি আলাদা এক গল্প। এখানকার গরম আর আর্দ্রতা, সঙ্গে পিচের মেজাজ, সব মিলিয়ে বোলারদের জন্য এটা কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। দিনের পর দিন রোদে পুড়ে ওভারের পর ওভার করে যাওয়া, উইকেট না পেলেও লাইন-লেংথ ধরে রাখা, এই ধৈর্যের লড়াইটাই হয়তো ঠিক করে দেবে ম্যাচের ভাগ্য। ইবাদত হোসেনের মতো পেসাররা তাই দুই দিন আগে থেকেই শরীর ঠান্ডা রাখা আর পানি পানের নিয়ম মেনে চলছেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশ করেছিল ২৩৪, জবাবে আমিরাত থেমেছিল ২২২ রানে। ইকবাল হোসেন ইমন ৩০ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট, তাইজুল ইসলাম ৫৮ রানে ৩টি। ছোট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ফল খুব বড় কিছু বলে না, তবে বোলিং আক্রমণ যে খানিকটা ছন্দে আছে, সেটুকু ভরসা অন্তত দেয়।

ব্যাটিং নিয়েও দুশ্চিন্তা কম নেই। দেশের বাইরে গত কয়েক বছরে ভালো ফল এলেও এবার পরিবেশ একেবারে ভিন্ন, ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে টেনশন আছে, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ফর্মে ফেরার তাগাদাও আছে। শান্ত অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেবেন, তানজিদ, সাদমান আর সৌম্য থাকছেন শীর্ষ সারিতে, মাঝে মুশফিক, লিটন আর মুমিনুল হক। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে এটাই একমাত্র ম্যাচ, যেখানে খেলোয়াড়দের সামর্থ্য যাচাই করে নেওয়া যাবে। জিতলে আত্মবিশ্বাসের ভিত আরও শক্ত হবে, আর হোঁচট খেলে বড় সিরিজের আগে প্রশ্ন উঠবে অনেক।

সব মিলিয়ে ভারসাম্যটা বাংলাদেশের দিকেই  আছে। ফর্ম, আত্মবিশ্বাস আর অস্ট্রেলিয়া-জয়ের স্মৃতি, তিনটিই তাদের পক্ষে। তবে আফগানরা ঘরের মতো কন্ডিশনে খেলছে, এটা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশের ব্যাটাররা যদি গরমে টিকে থেকে রান তুলতে পারে আর বোলাররা শেষ দিন পর্যন্ত দম ধরে রাখতে পারে, তাহলে আফগানদের টানা তৃতীয় হারের গল্পটাই লেখা হতে পারে।

Share via
Copy link