চার ছক্কার পসরা সাজিয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন রনি তালুকদার। আর শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দেখালেন, বয়স কেবলই সংখ্যা, ফুরিয়ে যায়নি তাঁর ব্যাটের ধার। শারজায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নসের বিপক্ষে যেন ফিরে এল বাংলাদেশের ক্রিকেটের পুরোনো দিনের রোমাঞ্চ। ব্যাট হাতে শৈশব কৈশোরের নায়কদের এমন দাপট দেখে স্মৃতির পাতায় ডুব দিলেন সমর্থকেরা।
ওপেনিংয়ে নেমেই রনি তালুকদার সাজালেন চার ছক্কার অনন্য পসরা। ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় মাত্র ৫৬ বলে ৯৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১৭১.৪৩। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে থামল তাঁর ব্যাট। ব্যক্তিগত শতকের স্বাদ না পেলেও রনি উপহার দিলেন এমন এক ইনিংস, যা ভক্তদের মনে থাকবে অনেকদিন!
ইমরুল কায়েস ৩০ রান করে ফিরে গেলে ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে নিয়ে ৮৯ রানের জুটি গড়েন রনি। রাব্বি সাজঘরে ফেরার পর তাঁর সঙ্গী হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুই ব্যাটারের জুটিতে যোগ হয় আরও ৫৫ রান। রনির ব্যাটে তখনও রানের ফুলঝুরি, আর অন্য প্রান্তে রিয়াদের উপস্থিতি যেন ফিরিয়ে আনছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেই পরিচিত নির্ভরতার দিনগুলো। শেষ পর্যন্ত চাদউইক ওয়ালটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় রনিকে।

রনির বিদায়ের পরও ব্যাট হাতে থামেননি রিয়াদ। একসময় বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা, চাপের মুহূর্তে যাঁর ব্যাট হয়ে উঠত প্রতিপক্ষের জন্য নীরব আতঙ্ক, সেই সাইলেন্ট কিলার আবারও বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁর ওপর এতটা আস্থা রাখতেন সমর্থকেরা। মাত্র ২১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৩ রান করেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ২০৪.৭৬। ছিল আগ্রাসন, ছিল নিখুঁত স্ট্রাইক রোটেশন, ছিল সময় বুঝে আক্রমণে যাওয়ার সেই চেনা দক্ষতা। বয়সের ভার নয়, অভিজ্ঞতার দীপ্তিই যেন ফুটে উঠল রিয়াদের প্রতিটি শটে।

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৮ রান। এমন স্কোরে জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন সমর্থকেরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমেও যে অপেক্ষা করছিল বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের আয়োজন। ক্রিস গেইল ও চাদউইক ওয়ালটনের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নস। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তির দিকে।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের ভাগ্যে জুটল পরাজয়। তবু সব হার কি কেবল স্কোরবোর্ডের হিসাবেই মাপা যায়? কিছু কিছু ম্যাচে ফলাফলের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে স্মৃতি, আবেগ আর ফেলে আসা দিনের গল্প। রনি তালুকদারের চার ছক্কার ঝড় কিংবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের চেনা আগ্রাসন তাই কেবল রানসংখ্যার পরিসংখ্যান নয়, বরং এক প্রজন্মের ক্রিকেটপ্রেমীদের নস্টালজিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার উপলক্ষ।











