দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বহরে থেকেও একাদশে জোটেনি নিয়মিত ঠাঁই। অবশেষে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নাইম হাসান বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর সামর্থ্য কেবল বল হাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাট হাতেও তিনি হয়ে উঠতে পারেন দৃঢ়তার প্রতিমূর্তি। ১৭ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শুরু করা নাইম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৩৫ রানে। যোগ্য সঙ্গ পেলে হয়তো টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতকের স্বাদও পেতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস, যা প্রত্যাশার নিরিখে নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
জবাবে বল হাতে বাংলাদেশের সূচনা ছিল আক্রমণাত্মক। ইনিংসের পঞ্চম বলেই হাসান মাহমুদের মোহনীয় ডেলিভারিতে পরাস্ত হন সেদিকউল্লাহ আতাল। স্লিপে ক্যাচের জোরালো আবেদন উঠলেও আম্পায়ারের নির্বিকার সিদ্ধান্তের বিপরীতে শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু রিপ্লেতে ধরা পড়ে, ব্যাট ও বলের মাঝে ছিল স্পষ্ট ব্যবধান; বলের সংস্পর্শ হয়েছিল প্যাডে। শুরুতেই রিভিউ খুইয়ে বসে বাংলাদেশ।
অথচ তৃতীয় ওভারেই হাসানের বল আতালের ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। এবারও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকলেও অবিশ্বাস্যভাবে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে হাসানের বলেই ১৭ রানে বিদায় নেন আতাল।

এরপর ইবাদতের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ২০ রানে সাজঘরে ফেরেন শহীদুল্লাহ। ব্যাটের কানায় লেগে বল উড়ে যায় ডিপ ফাইন লেগে; দৌড়ে এসে সামনে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচে তা তালুবন্দী করেন হাসান মাহমুদ। দলীয় ৬৪ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটলেও আবদুল মালিক ও রহমত শাহর প্রতিরোধে ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পথ। তৃতীয় উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়ে তাঁরা চেপে বসেন টাইগারদের ওপর। পরে ইবাদতের বলে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে ধরা পড়ে ৬২ রানে থামেন মালিক। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেওয়া এই ওপেনারের বিদায়ে ভাঙে আফগানদের দৃঢ়প্রত্যয়ী জুটি।
দীর্ঘ ১৫১ বলের প্রতীক্ষার পর উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে দ্বিতীয় আঘাতটি হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর বলে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন হাশমতউল্লাহ শহিদী!
তবে বাংলাদেশের স্বস্তির অবকাশ দীর্ঘায়িত হতে দেননি ইকরাম আলিখিল ও রহমত শাহ। একের পর এক ডট বলের নিপুণ বুননে উইকেট আগলে রেখে অবিচল প্রতিরোধ গড়েছেন তাঁরা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে রহমত শাহ ৮৪ রানে অপরাজিত, অন্য প্রান্তে ইকরাম আলিখিলের সংগ্রহ ২৬। তাঁদের সংযত অথচ অনমনীয় ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলে দিন শেষ করেছে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের বিপরীতে এখনও ১৩৫ রানে পিছিয়ে আফগানরা! ব্যবধান থাকলেও রহমতের দৃঢ়তা আর আলিখিলের ধৈর্য বাংলাদেশের স্বস্তিকে ক্রমেই ম্লান করে দিচ্ছে।











