অবিশ্বাস্য ম্যাট রেনশো। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা যখন অস্ট্রেলিয়ার রণতরী ডুবিয়ে দিচ্ছে তখনই উদ্ধারকারী হয়ে এলেন রেনশো। যাদের ২০০ পার হওয়া নিয়ে সংশয় ছিল তাদের হয়ে একাই ১৯০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেন তিনি। টেলএন্ডারদের নিয়ে একাই লড়ে গেলেন, রচনা করলেন অবিশ্বাস্য এক গল্পের।
বছর তিনেকের নির্বাসনসম সময়। জাতীয় দলের সাদা পোশাকে আর নিয়মিত দেখা যায়নি তাঁকে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটীয় বাস্তবতা, বদলেছে দলের সমীকরণ। নতুন মুখের ভিড়ে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়া যে সহজ নয়, তা ভালো করেই জানতেন রেনশো। তবু অপেক্ষা থামেনি।
অবশেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন। কিন্তু বাইশ গজে নামার পরই কি আর সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়? ব্যাট হাতে আট রানে থেমে যাওয়া সেই ইনিংস যেন আরও কিছু প্রশ্ন রেখে গেল। এত দিনের অপেক্ষা, এত দিনের প্রস্তুতি, অথচ নিজেকে মেলে ধরার অবকাশটুকুও মিলল না! তবে বিধাতা তাঁকে খালি হাতে ফিরতে দিতে চাননি। বড় সুযোগ এলো আফ্রিকার বিপক্ষে। দলের বিপদে দাঁড়ালেন বুক চিতিয়ে।

৮৪ রানে তিন উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার। স্টিভ স্মিথকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। তবে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখলেন স্মিথের চলে যাওয়া। ৮৪তেই চার উইকেট নেই। আফ্রিকার বোলাররা তখন ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিতেই উদ্যত হয়েছে। আরও মজার ব্যাপার, ১২৪ রানে উইকেট হারানোর সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে। এরপর ২০০ পেরোনো তখন দিবাস্বপ্নের মতোই।
তবে চেষ্টা করতে ক্ষতি কী! সেই চেষ্টায় করেছেন রেনশো, প্যাট কামিন্সকে সঙ্গে নিয়ে ৮৬ রানের জুটি, একটু একটু করে মাথাটা উঁচু করে অজি শিবির। তবে কামিন্সের বিদায়ের পর শেষ আশাটা নিভে যেতে থাকে। ২৩০ রানের মধ্যে আট উইকেট হারালে এরপর আর কিছুই বাকি থাকে কি?
তবে রেনশো যে তখনও নিজের ভেতরে একটা লড়াই চালাচ্ছিলেন। নিজেকে প্রমাণের এই তো সুযোগ। করে দেখাতে হবে বিশেষ কিছু। নাথান লায়নকে সঙ্গী করলেন। এরপর চলল অবিশ্বাস্য এক গল্প।

১৩৪ রান আসে এই জুটি থেকে। যার মধ্যে রেনশোর একারই একশো। টেলএন্ডার ব্যাটারকে সঙ্গে নিয়ে এই ইনিংস তাই স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতোই। ২০০ রানের দিকে একটু একটু করে ধাবিত হচ্ছিলেন। তবে সেই ইতিহাস আর রচনা করা হলো না মোটে ১০ রানের জন্য। ১৯০তেই থামে রেনশোর যাত্রা।
তিন বছর দলে ছিলেন না, নয় বছর টেস্টে সেঞ্চুরি পাননি, সেই আক্ষেপ ঘোচালেন মোক্ষম সময়ে। যেন গর্বের সুরে বলে গেলেন, অস্ট্রেলিয়া তাঁকে ফিরিয়ে ভুল করেনি।










