আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে বার্সেলোনার দাপুটে জয়

আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে আবার মাঠে নেমেই নিজেদের সেরা রূপ দেখাল বার্সেলোনা। গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লা লিগায় জয়রথ অব্যাহত রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।

আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে আবার মাঠে নেমেই নিজেদের সেরা রূপ দেখাল বার্সেলোনা। গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লা লিগায় জয়রথ অব্যাহত রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। রাফিনহাকে ছাড়া গোল স্কোরিং নিয়ে শঙ্কা থাকলেও গর্ডন-জেসুসরা মাঠে নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে তা পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছেন।

​ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় অ্যান্থনি গর্ডনের গোলটি পুরো ম্যাচের কৌশলগত গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ৪-৩-৩ অ্যাটাকিং শেপে গর্ডন এবং ইয়ামালকে একদম টাচলাইনে প্রশস্ত রেখে গেতাফের পাঁচজনের রক্ষণভাগকে টেনে প্রসারিত করে বার্সা।

গেতাফে সাধারণত ৪-৫-১ বা ৫-৪-১ লো-ব্লকে ডিফেন্স করে ভেতরের হাফ-স্পেস বন্ধ রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই গর্ডনের বক্সের বাইরের থেকে দূরপাল্লার শট গেতাফের সেই ডিফেন্সিভ শেপ পুরোপুরি গুড়িয়ে দেয়।

​বার্সেলোনার আক্রমণের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল হাফ-স্পেসগুলোর সঠিক ব্যবহার। গাব্রিয়েল জেসুস চিরাচরিত নম্বর নাইন হিসেবে এক জায়গায় স্থির না করে ক্রমাগত নিচে নেমে এসে গেতাফের সেন্টার-ব্যাকদের পজিশন থেকে টেনে বের করে আনেন। এর ফলে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়, সেখানে রান নেন দানি ওলমো ও ইনসাইড উইঙ্গাররা। ৩০তম মিনিটে জেসুসের গোলটি ছিল এই অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট এবং কুইক পাসিং কম্বিনেশনেরই ফসল।

​মিডফিল্ডে রড্রির উপস্থিতি ছিল এক কথায় মানবপ্রাচীরের মতো। মাঠের মাঝখানে গেতাফের যেকোনো ট্রানজিশন বা পাল্টা আক্রমণের সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেন তিনি। পজেশন হারানোর পরপরই তাঁর চমৎকার পজিশনিং ও দ্রুত বল রিকভারির কারণে গেতাফেকে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট অন টার্গেটে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে।

ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে লামিনে ইয়ামালের বাড়ানো দারুণ এক ক্রসে বক্সের ভেতর একদম কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে বল পোস্টের ডান কোণ দিয়ে জালে জড়ান জুলস কুন্দে। অফসাইড শঙ্কা থাকলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর গোলটির স্বীকৃতি মেলে।

হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা এখন পজেশনাল ফুটবলের পাশাপাশি অত্যন্ত ভার্টিক্যাল ও আক্রমণাত্মক। গেতাফের মতো ফিজিক্যাল ফুটবল খেলা দলকে ট্যাকটিকালি পরাস্ত করে এই জয় প্রমাণ করে যে, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং প্লেয়ারদের রোটিং পজিশনিংয়ের দিক থেকে চলতি মৌসুমে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই এগোচ্ছে বার্সেলোনা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link