বয়সের অনিবার্য নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেকে থামিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়! আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় বন্ধ হলেও, মেসির জাদুর কি সমাপ্তি ঘটল? উত্তরটা পেতে অপেক্ষা করতে হলো মাত্র চার দিন! এরপরই ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে জোড়া গোল করে জানিয়ে দিলেন, মেসির ম্যাজিক অবিনশ্বর।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন বেনিনের বিপক্ষে। বুয়েনস এইরেসের সেই ম্যাচে একটি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন আরও দুই গোল। জাতীয় দলের হয়ে ১২৬ গোলের অবিস্মরণীয় অধ্যায় পেছনে ফেলে বিদায়ের পথে পা বাড়িয়েছিলেন মহাতারকা। অপূর্ণতার আক্ষেপ মুছে পূর্ণতার গল্প লিখেছেন নিজের হাতে। অথচ জীবনের নিয়মে একসময় থামতে হয় সবাইকে। মেসিকেও থামতে হলো! কিন্তু ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে ফিরতেই যেন বুঝিয়ে দিলেন, বিদায় মানেই তো ফুরিয়ে যাওয়া নয়।

মেজর লিগ সকারে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে ইন্টার মিয়ামির ৪-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন মেসি। ৪৭ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর ৬০ মিনিটে শুরু হয় সেই চিরচেনা মেসিময় দৃশ্য। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের তিন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। যেন বয়সের চোখে চোখ রেখে বলে দিলেন, ‘আমার গল্পের শেষটা এখনো লেখা হয়নি!’
কিংবদন্তিদের মধ্যে তারাই সেরা, যারা বিদায় নিতে জানেন সঠিক সময়ে। পারফরম্যান্সটাকে চূড়ায় রেখে যদি বুটটাকে বাক্সবন্দী করে রাখা যায়, তবেই তো আসল সার্থকতা। মেসি সেই কাজটাই করেছেন। তবে অস্ত্র জমা দেওয়া মানেই তো ট্রেনিং জমা দেওয়া নয়। আন্তর্জাতিকের পালা শেষ করে মুক্ত বিহঙ্গের মতো তিনি ক্লাব ফুটবলে উড়বেন। স্বভাবজাত প্রতিভা দিয়ে মুগ্ধ করে রাখবেন সবাইকে, যে কটা দিন সবুজ গালিচা তাঁর ঠিকানা।











