দিনের শেষে ছন্দপতন, তবু চালকের আসনে শান্তরা

এখন চতুর্থ দিনের অপেক্ষা। লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে লিড আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা বাংলাদেশের। একদিকে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের গৌরব, অন্যদিকে শেষ বিকেলের উইকেট পতনের অস্বস্তি। জয়ের পথে এগিয়ে থাকতে হলে চতুর্থ দিনে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে টাইগারদের।

হ্যাটট্রিকের ইতিহাস, ব্যাট হাতে প্রতিরোধ, আর দিনশেষে উইকেট হারানোর দীর্ঘশ্বাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। সকালে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে দাপট দেখালেও বিকেলের শেষভাগে নিজেদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে খানিকটা অস্বস্তিতে টাইগাররা। ২২৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করলেও আফগানদের চেয়ে ৩২৯ রানের বিশাল লিড নিয়ে এখনো চালকের আসনে বাংলাদেশ।

দিনের শুরুটা ছিল পেসারদের দাপটে রঙিন। হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেনের আগুনঝরা বোলিংয়ে তছনছ হয়ে যায় আফগান ব্যাটিং লাইনআপ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান হাসান। তাঁর সেই বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১০৬ রান পিছিয়ে থেকেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ১৩, মুমিনুল হক ৭ এবং তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ৫৩ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। সেখান থেকে প্রতিরোধের দেয়াল গড়েন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ১৫৯ রানের জুটি বিপর্যয়ের মেঘ সরিয়ে স্বস্তির আলো ফেরায়। দীর্ঘদিন পর ফিফটি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু জিয়া উর রহমানের বলে প্যাডল শট খেলতে গিয়ে টপ এজ হলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন শহিদুল্লাহ কামালের হাতে। ৬৫.২ ওভারে ২১২ রানে থামে তাঁর লড়াই।

অন্যদিকে, দলের প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক মেজাজ সংযত রেখে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন শান্ত। কিন্তু কায়েস আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ৭০.৫ ওভারে ফিরতে হয় তাঁকেও। এরপর নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমে দ্রুত বিদায় নেন হাসান মাহমুদ। তাতেই দিনশেষে কিছুটা দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের শিবিরে।

এখন চতুর্থ দিনের অপেক্ষা। লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে লিড আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা বাংলাদেশের। একদিকে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের গৌরব, অন্যদিকে শেষ বিকেলের উইকেট পতনের অস্বস্তি। জয়ের পথে এগিয়ে থাকতে হলে চতুর্থ দিনে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে টাইগারদের।

 

Share via
Copy link