শেন ওয়ার্নের পাশে একমাত্র পেসার হাসান মাহমুদ

বয়স মাত্র ছাব্বিশ, টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স আড়াই বছরের একটু বেশি। এর মধ্যেই কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের পাশে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন হাসান মাহমুদ।

বয়স মাত্র ছাব্বিশ, টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স আড়াই বছরের একটু বেশি। এর মধ্যেই কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের পাশে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন হাসান মাহমুদ। ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আমিরাত আর ইংল্যান্ডের উইকেটে ফাইফার, এই কীর্তি এখন পর্যন্ত আছে শুধু দুজনের। একজন ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লেগ স্পিনার, আরেকজন বাংলাদেশের ডান হাতি পেসার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ৫৫ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে তালিকাটা পূর্ণ করেছেন হাসান। সঙ্গে যোগ হয়েছে হ্যাটট্রিক।

শুরুটা হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে। পাকিস্তানের মাটিতে সেই টেস্টে পাঁচ উইকেট নেন হাসান, আর বাংলাদেশ সিরিজ জেতে ২-০ ব্যবধানে। কয়েক সপ্তাহ পরে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ৮৩ রানে পাঁচ উইকেট। ম্যাচটা বাংলাদেশ হারলেও ভারতের মাটিতে টেস্টে ফাইফার পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। এরপর কেন্টের হয়ে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও পাঁচ উইকেট নেন। সবুজ, ভেজা আর সুইং ধরা উইকেটে বল করা এশিয়ার বোলারদের জন্য সবসময়ই কঠিন, সেখানেও হাসান নিজের কাজটা করে এসেছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ডারউইনে ২০২৬ সালের আগস্টে আসে আরও বড় মুহূর্ত। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা গুটিয়ে যায় ১৯৮ রানে, আর হাসান ৫৫ রানে নেন ছয় উইকেট, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। স্টিভ স্মিথের উইকেটে পাঁচ পূর্ণ করে একটু পরে নাথান লায়নকেও ফিরিয়ে দেন। পুরো ম্যাচে শিকার দাঁড়ায় ৯ উইকেট। সবশেষ আবুধাবিতে, আমিরাতের সেই কঠিন পিচে, যেখানে বল খুব একটা টার্ন করে না আর ব্যাটসম্যান সেট হয়ে গেলে তাঁকে আউট করা বেশ ঝামেলার।

পিচ আলাদা, দেশ আলাদা, প্রতিপক্ষও আলাদা, কিন্তু হাসানের বল করার ধরনে বড় কোনো বদল দেখা যায়নি। ফুল লেংথে বল করেছেন, সিম আর সুইং কাজে লাগিয়েছেন, ব্যাটসম্যানের ভুলের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। দল চাপে পড়লে অধিনায়কের চোখ তাই প্রথমেই চলে যায় তাঁর দিকে।

ওয়ার্নের নামটা এই তালিকায় আছে বলেই হাসানের বিশেষত্ব টা আরও বেশি  চোখে পড়ে। ৩৭টি টেস্ট ফাইফার নিয়ে ওয়ার্ন মুরালিধরনের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দুজনের বোলিংয়ের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা, একজন ঘূর্ণি দিয়ে নাচাতেন, আরেকজন গতি আর সিম দিয়ে ভাঙেন। তবু পাঁচ দেশের উইকেটে ফাইফারের তালিকায় তাঁরা পাশাপাশি। আর এই তালিকায় পেসার বলতে আছেন শুধু হাসানই।

মাত্র ১৭ টেস্টেই তাঁর উইকেট হয়ে গেছে ৫০, গড় ২৮.৫২। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্ট ফাইফারে তাঁর সামনে আছেন কেবল শাহাদাত হোসেন। সামনে পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে, আর সেখানে ফাইফারের সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেটা সময়ই বলবে।

Share via
Copy link