সাত ওভারে ২৮ রানে চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর শারজায় সবার আগে যে প্রশ্নটা উঁকি দিচ্ছিল, সেটা হলো এই দলে মিডল অর্ডার কোথায়। তানজিদ, সাইফ, সৌম্য আর ইমন, এই চারজনই মূলত ওপেনার। অথচ এই ম্যাচে তাঁদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুরো ব্যাটিং লাইনআপে। সৌম্য নামলেন তিন নম্বরে, প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফিরলেন। যে ব্যাটারের পুরো ক্যারিয়ার গেছে নতুন বলের সামনে, তাঁকে হঠাৎ নতুন ভূমিকায় পাঠালে কী হয়, সেটা বোঝার জন্য খুব বড় বিশ্লেষক হওয়ার দরকার নেই।
সাইফ আর ইমন অবশ্য পরে দারুণ লড়েছেন। কিন্তু ৯৩ রানের সেই জুটি ভাঙার পর দেখা গেল পেছনে আর কেউ নেই যিনি ইনিংসটা ধরে রাখবেন। শান্ত টিকতে পারেননি, হৃদয় এলেন আর গেলেন, মিরাজ সাত বল খেলে ফিরলেন। মাঝপথে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার, স্পিনারদের সামলানোর, শেষ দিকে গতি বাড়ানোর যে কাজ একজন প্রোপার মিডল অর্ডার ব্যাটারের, সেটা করার মতো কেউ ছিলই না।
সমস্যাটা অবশ্য এই এক ম্যাচের নয়। মুশফিক-সাকিবরা চলে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ওপেনার দিয়ে মিডল অর্ডারের ফাঁক ভরাট করে আসছে। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই শুরু হয় এই রীতি, যে ব্যাটার যে পজিশনে স্বচ্ছন্দে খেলেন তাঁকে সেখানে না খেলিয়ে যেখানে জায়গা খালি সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ওপেনারের কাজ নতুন বল সামলে ইনিংসের ভিত গড়া, মিডল অর্ডারের কাজ স্পিন আর পুরোনো বলের সামনে ইনিংস টেনে নেওয়া। দুটো এক জিনিস নয়, কিন্তু বাংলাদেশ দুটোকেই এক করে ফেলেছে।

ফিনিশারের জায়গাটা আরও ফাঁকা। শেষ দিকে নেমে ম্যাচ বের করে আনার মতো একজন ব্যাটারও এই দলে নেই। ইনিংসের শেষ আট ওভারে বাংলাদেশ হারাল পাঁচ উইকেট, তুলতে পারল মাত্র ৪০ রানের কাছাকাছি। লোয়ার অর্ডারে নেমে কম বলে বেশ কিছু রান তুলে দেওয়ার মতো কেউ নেই দলে যাকে ভরসা করা যায়। ফিনিশার তৈরি হয় নিজের ভূমিকায় বছরের পর বছর খেলে,সেখানে বাংলাদেশের এই পজিশনে নেই স্থায়ী কোন খেলোয়াড়।
যে পিচে বাংলাদেশ রান তুলতেই হিমসিম খেয়েছে আফগানিস্তান সেই একই উইকেটে ১৬১ রানের লক্ষ্য ৩৫.৩ ওভারে পেরিয়ে গেল। পার্থক্যটা এখানেই। যার যে কাজ, সে সেটাই করল। বাংলাদেশ যতদিন ব্যাটারদের ভূমিকা ঠিক না করবে, ততদিন এই গল্পই বারবার ফিরে আসবে।











