ম্যাচ শেষ! ইংল্যান্ড জিতে গেছে ২০ রানে! স্কোরবোর্ডে ভেসে উঠেছে জয়ের বার্তা। দুই দলের ক্রিকেটাররা হাত মেলাতে শুরু করেছেন। সাজঘরের পথ ধরতে যাচ্ছেন শাদাব খানও। চোখেমুখে হতাশা, শরীরী ভাষায় পরাজয়ের গ্লানি। অথচ এই ম্যাচটাই তো তিনি একার হাতে টেনে নিয়ে এসেছিলেন জয়ের এত কাছে! সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে এভাবে শেষ হয়ে যাবে সবকিছু? বিশ্বাস হচ্ছিল না শাদাবের নিজেরও। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, একটা রিভিউ বদলে দিল সব ইতিহাস।
২৪২ রানের লক্ষ্য। একসময় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট নেই! জয়ের জন্য তখনও পাকিস্তানের প্রয়োজন ৮৮ রান। হাতে মাত্র একটি উইকেট। শাদাব বুঝেছিলেন, শুধু টিকে থাকলে হবে না, শেষ পর্যন্ত জয়ের দায়িত্বও নিতে হবে তাঁকেই।

কিন্তু নাটকের তখনো বাকি ছিল সবচেয়ে বড় দৃশ্য। গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর আবেদন। আম্পায়ারের আঙুল উঠে গেল। শাদাব তখন ৯৭ রানে। পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২১ রান। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আনন্দে হাত মেলাতে শুরু করেছেন। শাদাব হতাশায় ব্যাট মাটিতে আছড়ে ফেললেন। যেন এতক্ষণ ধরে গড়ে তোলা মহাকাব্যটা শেষ হওয়ার আগেই ছিঁড়ে গেল শেষ পৃষ্ঠা! মাঠ ছাড়তে উদ্যত শাদাবের সামনে তখন পরাজয়ের অন্ধকার।
কিন্তু হারিস রউফ হাল ছাড়লেন না। রিভিউ নেওয়ার পরামর্শ দিলেন শাদাবকে। আর সেখানেই বদলে গেল গল্পের মোড়। আলট্রাএজে দেখা গেল, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের ভেতরের কানায় স্পর্শ করেছিল! অর্থাৎ শাদাব আউট নন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে গেল।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি শাদাব। শেষ পর্যন্ত ৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করে মাঠ ছাড়লেন তিনি। পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নিল এক উইকেট হাতে রেখে। ৯৭ রানে শেষ হয়ে যেতে পারত তাঁর মহাকাব্য। কিন্তু নিয়তি যেন তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল আরও কয়েকটি পৃষ্ঠা লেখার সুযোগ।










