তপু বর্মণহীন রক্ষণে চরম বিপর্যয়

ইনজুরির কারণে  আসিয়ান কাপের আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন তপু বর্মণ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারের ম্যাচে সেই অনুপস্থিতিটাই যেন হাড়ে হাড়ে টের পেল বাংলাদেশ, রক্ষণে দাঁড়াতেই পারল না দল।

ইনজুরির কারণে  আসিয়ান কাপের আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন তপু বর্মণ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারের ম্যাচে সেই অনুপস্থিতিটাই যেন হাড়ে হাড়ে টের পেল বাংলাদেশ, রক্ষণে দাঁড়াতেই পারল না দল।

প্রথমার্ধের অনেকটা সময় মালয়েশিয়া খেলল বাংলাদেশের বক্সের আশেপাশেই। জোনাল মার্কিং বা লাইন ধরে রাখার মতো সংগঠিত কোনো কাঠামো চোখে পড়েনি রক্ষণে, বারবার ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে সেন্টারব্যাকদের মাঝে। সেই ফাঁক দিয়েই এলো দুই গোল, একটা আঠারো মিনিটে, আরেকটা ৩৭ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে না হতেই এলো তৃতীয় গোলও, প্রতিটা গোলের পেছনেই স্পষ্ট এক ডিফেন্সিভ ভুল, অভিজ্ঞতার অভাব যেটা ঢেকে দেওয়ার কেউ ছিল না মাঠে।

তপু বর্মণকে ছাড়া এই রক্ষণটা যে কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, সেটা বোঝা যায় তাঁর জায়গায় খেলা তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাকদের দিকে তাকালেই।  কাউকে হুট করে এত বড় মঞ্চে নামিয়ে দেওয়াটা যতটা সাহসী সিদ্ধান্ত, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণও।

অথচ দলে থাকলে ঠিক এই জায়গাগুলোতেই পার্থক্য গড়ে দেন তপু। উচ্চতার কারণে বাড়তি সুবিধা পাওয়া এই ডিফেন্ডার শুধু বল ক্লিয়ার করাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, সেট পিসে প্রতিপক্ষের বক্সেও সমান ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। জুনে ইউরোপের সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের দিনেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনিই, থমাস ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই দলকে জিতিয়েছিলেন কার্যত একা হাতে। রক্ষণে নেতৃত্ব দেওয়া, প্রতিপক্ষের আক্রমণ পড়তে পারা, প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তের ট্যাকল, এই সবকিছু মিলিয়েই দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হয়ে উঠেছিলেন তিনি বছরের পর বছর ধরে।

কোচ ডুলি অবশ্য তাড়াহুড়ো করেননি তাঁকে নিয়ে। চোট পুরোপুরি না সারায় আসিয়ান কাপের ঝুঁকি না নিয়ে বরং নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তাঁকে সম্পূর্ণ ফিট করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন। যুক্তিটা বোঝা যায়, ঘরের মাঠের টুর্নামেন্টেই আসল লক্ষ্য। কিন্তু তার আগে যে মূল্যটা দিতে হচ্ছে, সেটাও কম নয়। মালয়েশিয়ার বিপক্ষের এই ম্যাচটাই বলে দিল, রক্ষণে একজন অভিজ্ঞ নেতার অভাব একটা দলকে ঠিক কতটা অসহায় করে তুলতে পারে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link