নব্বইয়ের এক নস্টালজিক ব্যাটার!

সবকিছু ছাপিয়ে ক্রিকেট ময়দানে অনবদ্য সব শট খেলার দৃঢ়তা আর দলের প্রয়োজনের সময়ে জ্বলে ওঠার প্রবণতার কারণে দর্শক-সমর্থকদের কাছে আমির সোহেল এক নস্টালজিক ব্যাটার হয়ে থাকতে বাধ্য!

তখনও টি-টোয়েন্টির যুগের শুরু হয়নি। অথচ, ২২ গজে কাভার ড্রাইভ, পুল শট আর লেগ গ্ল্যান্সের কারিকুরিতে প্রতিপক্ষের বোলারদের তুলোধুনো করে দিতেন এক পাকিস্তানি ব্যাটার। তিনি আমির সোহেল।

১৯৯২ সালে অভিষেকের পর তৃতীয় টেস্টেই নিজের জাত চেনান আমির সোহেল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ২০৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে নিজের রাজকীয় আগমনের বার্তা দেন।

একই বছরে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়েও আগ্রাসী ব্যাটিং করে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। টুর্নামেন্টটিতে ৩২৬ রান করেন তিনি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১৪ রানের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিও করেন এই ওপেনার। একই, আসরে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার শক্ত বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে ব্যাট করে আলো ছড়িয়ে অর্ধশতক তুলে নেন সোহেল। শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাটিং নৈপুণ্যে পাকিস্তানের শিরোপা জয়ের পথ খানিকটা সুগম হয়ে ওঠে।

অধিনায়ক হিসেবেও তিনি গড়েন অনন্য নজির। তাঁর নেতৃত্বেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে টেস্ট জয়ের প্রথম গৌরব অর্জন করে পাকিস্তান। ১৯৯৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানে সাহারা ওয়ানডে কাপের ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ও ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম সাফল্য। এক দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৭ টেস্টে ২ হাজার ৮২৩ রান এবং ১৫৬ ওডিআইতে ৪ হাজার ৭৮০ রান করার সঙ্গে সঙ্গে বল হাতে দুই ফরম্যাট মিলিয়ে নেন ১০৯টি উইকেটও।

তবে মাঠে ও মাঠের বাইরে নানা বিতর্কিত কাণ্ডের জেরে সোহেলের খেলোয়াড়ি জীবন থমকে দাঁড়ায়। ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালে থ্রি লায়ন্স ক্রিকেটার ইয়ান বোথামকে আউট করে তাঁর সঙ্গে বচসা কিংবা ১৯৯৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বোলার ভেঙ্কটেশ প্রসাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাদানুবাদ করার ঘটনা আমির সোহেলের স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার খোরাক জোগায় সমালোচকদের।

পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা এই ওপেনারের অধিনায়কত্বে একটি ম্যাচে ফিক্সিংয়েরও অভিযোগ ওঠে। যার কারণে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় এই ড্যাশিং ব্যাটারকে! সমালোচনার চাপ আর বিতর্কের প্রসারিত হতে থাকা ডালপালার ভার খুব বেশিদিন বইতে পারেননি সোহেল। ২০০১ সাল নাগাদ ফর্মহীনতা কাটাতে না পারায় অনেকটা নিভৃতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান এই পাকিস্তান খেলোয়াড়।

তবু, সবকিছু ছাপিয়ে ক্রিকেট ময়দানে অনবদ্য সব শট খেলার দৃঢ়তা আর দলের প্রয়োজনের সময়ে জ্বলে ওঠার প্রবণতার কারণে দর্শক-সমর্থকদের কাছে আমির সোহেল এক নস্টালজিক ব্যাটার হয়ে থাকতে বাধ্য! নব্বইয়ের দশকে সাঈদ আনোয়ার বাদে আর কোন ওপেনার তাঁর মতো করে এমন দ্যুতি ছড়িয়েছেন, সেটাও ব্যাপক অনুসন্ধানের ব্যাপারই বটে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link