জ্যাকব মার্টিনের জীবন কারও কাম্য নয়

দেশের জার্সি পাওয়া, জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি তুলে ধরা যে কোনো ক্রিকেটারেরই বড় স্বপ্ন। তেমনই স্বপ্ন দেখতে দেখতে ২২ গজে এসেছিলেন জ্যাকব মার্টিন নামের এক ভারতীয় তরুণ।

দেশের জার্সি পাওয়া, জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি তুলে ধরা যে কোনো ক্রিকেটারেরই বড় স্বপ্ন। তেমনই স্বপ্ন দেখতে দেখতে ২২ গজে এসেছিলেন জ্যাকব মার্টিন নামের এক ভারতীয় তরুণ। কিন্তু, সবাইকে সবসময় অলিম্পাসের দেবতা যে সবটা উজাড় করে দেন না, এই অমোঘ সত্যিটাই প্রতিফলিত হয়েছে মার্টিনের জীবনে!

ঘরোয়া ক্রিকেটে বরোদার হয়ে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে হাজারেরও বেশি রান করেছিলেন মার্টিন। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০০০-০১ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিও জয় করে দলটি। ভারত জাতীয় দলের জার্সিতেও খেলেছেন ১০টি ওয়ানডে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৩৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৯ হাজার ১৯২ রান ও ২৩টি সেঞ্চুরির মালিক ১৯৭২ সালে জন্মানো এই ক্রিকেটার।

এতসব অর্জন সত্ত্বেও জ্যাকবের জীবনটা হঠাৎ এক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়! সালটা ২০০৪। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবৈধভাবে রয়ে যান এক ভারতীয়। পরে ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে উঠে আসে জ্যাকবের নাম। অভিযোগ ওঠে, ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার আড়ালে জাল নথি বানিয়ে বিদেশে অবৈধভাবে মানুষকে পাঠানোর চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে তাঁর। তাঁর নামে এই নিয়ে দায়ের করা হয় মামলাও।

বছর আসে, বছর যায়। তবু, মামলার ঝক্কি কাটে না এই ডানহাতি ব্যাটারের। শেষমেশ ২০১১ সালে গ্রেপ্তার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় তিহার জেলে কাটাতে হয় তাঁকে। আইনি জটিলতার কারণে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর হারান ভারতীয় রেলওয়ের চাকরিটাও। পরিবারকে দেখভালের ভার বহন আর নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার সামাজিক চাপ সামলে এরপরও মার্টিন সুদিনের অপেক্ষায় থাকেন।

অবশেষে ফুরায় তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পালা। ২২ বছর পর চলতি বছরের জুনে দিল্লীর পটিয়ালা হাউস কোর্ট তাঁকে সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেন। এত বছরেও রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ হাজিরে ব্যর্থ হওয়ায় এই রায় দেন আদালত।

জ্যাকব মার্টিনের মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার মাধ্যমে দুই দশকের দীর্ঘ দোলাচলের অবসান ঘটেছে। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সত্য উদঘাটিত হলেও, বিনিময়ে জ্যাকবকে জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে তাঁর স্বপ্নের ক্রিকেট ক্যারিয়ার আর জীবনের প্রায় দুই যুগকে।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link