লামিনের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা, কিন্তু ফাইনালটা আমাদের!

ভবিষ্যতের জন্য ইয়ামালের প্রতি শুভকামনাও জানান তিনি। তবে সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দেন, "ফাইনালে আর্জেন্টিনা সর্বোচ্চটা দেবে যাতে ইতিহাসটা এবার স্পেনের না হয়।"

যে ছবিটি ১৯ বছর আগে ছিল কেবল একটি দাতব্য ফটোশুটের স্মৃতি, আজ সেটিই বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত গল্প।

ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে ফিফার বিশেষ ফ্যান ইভেন্টে একই মঞ্চে ছিলেন লিওনেল মেসি, লিওনেল স্কালোনি, এমিলিয়ানো  মার্টিনেজ, স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও অধিনায়ক রদ্রি। বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া তারকাদের উপস্থিতিতে জমে ওঠা অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন মেসিই।

অনুষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে লামিন ইয়ামালের সঙ্গে মেসির সেই ভাইরাল ছবির প্রসঙ্গ। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন, এমনকি গোসলও করিয়েছিলেন তরুণ মেসি। প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ।

মেসি বলেন, “ছবিটা তোলা হয়েছিল যখন সে একেবারে শিশু ছিল। আর আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। সত্যিই এটা অবিশ্বাস্য, জীবনের এক অসাধারণ ঘটনা।”

তবে প্রশংসা করতে একটুও কার্পণ্য করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার ভাষায়, লামিন ইয়ামাল ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছে সে। মেসি বলেন, তিনি ইয়ামালকে কাছ থেকে অনুসরণ করেন, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে খেলে যেটিকে তিনি ভালোবাসেন—বার্সেলোনা। ভবিষ্যতের জন্য ইয়ামালের প্রতি শুভকামনাও জানান তিনি। তবে সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দেন, “ফাইনালে আর্জেন্টিনা সর্বোচ্চটা দেবে যাতে ইতিহাসটা এবার স্পেনের না হয়।”

বিশ্বকাপের চাপ নিয়েও কথা বলেন মেসি। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই শিখেছি ফুটবলে জয়ের চেয়ে হারই বেশি আসে। সেই হারই আমাকে আরও শক্ত করেছে। তাই ফাইনালের চাপকে আমি ভয় হিসেবে দেখি না, বরং আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি।”

অন্যদিকে স্কালোনিও অনুষ্ঠানে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতা দেখান। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মূলত তার সঙ্গে দেখা করার জন্যই এই অনুষ্ঠানে এসেছি।” পরে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তাও হয়েছে।

স্কালোনি আরও বলেন, ফাইনালে ওঠার পেছনে কৃতিত্ব পুরো দলের। তার মতে, “এই দলটি সবসময় একে অপরের জন্য লড়ে। আমরা এখান পর্যন্ত এসেছি দল হিসেবে, আর শেষ ম্যাচেও সেটাই করতে চাই।”

দিবু মার্টিনেজও ছিলেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। সমর্থকদের সঙ্গে ছবি তোলা, অটোগ্রাফ দেওয়া এবং সতীর্থদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দেখা যায় বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষককে। পুরো আর্জেন্টিনা শিবিরেই ছিল আত্মবিশ্বাসী কিন্তু সংযত এক পরিবেশ।

ফাইনালের আগে এই ফ্যান ইভেন্ট তাই শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এক মঞ্চে ছিল অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। এক পাশে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসি, অন্য পাশে নতুন প্রজন্মের প্রতীক লামিন ইয়ামাল। মাঝখানে স্কালোনি ও দিবু মার্টিনেজদের উপস্থিতি যেন মনে করিয়ে দিল—ফুটবলে সময় বদলায়, নায়ক বদলায়, কিন্তু কিছু মুহূর্ত ইতিহাস হয়ে থেকে যায়। আর ২০০৭ সালের সেই ছবিটি এখন ঠিক তেমনই এক ইতিহাসের অংশ।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link