ঝড়ে ‍শুরু নেতৃত্বের খাতা

ক্রিকেটই তো ভাঙা গড়ার খেলা। সেখানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তো (আইপিএল) নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার উৎসব।

প্রতি মৌসুমেই এই মঞ্চে রেকর্ড ভাঙা গড়ার কাজ করেন খেলোয়াড়েরা। সেই তালিকায় আছেন অভিষিক্ত অধিনায়করাও। এমন অনেক অধিনায়কেরই দেখা মিলেছে যারা নেতৃত্বের খাতাই খুলেছেন ব্যাটিং ঝড় দিয়ে। তেমনই কয়েকজনকে নিয়ে এবারের আয়োজন।

  • সাঞ্জু স্যামসন (রাজস্থান রয়্যালস – ভারত)

১২ এপ্রিল; ২০২১। রাজস্থান রয়্যালস বনাম পাঞ্জাব কিংস তাদের প্রথম ম্যাচ দিয়ে এবারের আসরের আইপিএল শুরু করে। সাঞ্জু স্যামসনের রাজস্থানের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে ডেব্যু হয় সেই ম্যাচে। হাই স্কোরিং সেই ম্যাচে মুম্বাইয়ে সাঞ্জু স্যামসন রেকর্ড গড়েন। অধিনায়ক হিসেবে আইপিএল অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডের পাশাপাশি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন।

টসে জিতে সেদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থানের অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২১ রান সংগ্রহ করে পাঞ্জাব কিংস।

রান তাড়া করতে নেমে একপাশে ব্যাটসম্যানরা টিকে থাকতে কষ্ট হলেও আরেক প্রান্তে সাঞ্জু স্যামসন একা হাতে ম্যাচে তান্ডব চালান। সে রাতে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে রাজস্থানের হয়ে ৩০-এর ওপর রান করেন তিনি! ৩৩ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ৫৪ বলে ব্যক্তিগত ৩য় সেঞ্চুরি করেন তিনি এবং অধিনায়ক হিসেবে প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরি করেন। শেষ বলে জিততে রাজস্থানের দরকার ছিলো ৫ রান, ডিপ কভারে শেষ বলে তিনি ধরা পড়লে ৪ রানে হেরে যায় রাজস্থান। ৬৩ বলে সাত ছক্কা ও ১২ চারে ১১৯ রান করেন তিনি।

  • মায়াঙ্ক আগারওয়াল (পাঞ্জাব কিংস – ভারত)

মোতেরায় নিয়মিত অধিনায়ক  লোকেশ রাহুলের অসুস্থতায় দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পান পাঞ্জাব কিংসের ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল। অধিনায়ক হিসেবে আইপিএলে তার অভিষেক ম্যাচে দিল্লির বিপক্ষে ৯৯ রানের ইনিংস খেলেন।

৫৮ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাত্র এক রানের আক্ষেপে সেঞ্চুরি পাননি আগারওয়াল। তার একা হাতে লড়াইয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে পাঞ্জাব কিংস৷ তার করা অপরাজিত ৯৯ রান এখন আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ২য় সর্বোচ্চ রান।

  • শ্রেয়াস আইয়ার (দিল্লী ক্যাপিটালস – ভারত)

২০২১ মৌসুমের আগে অধিনায়ক হিসেবে আইপিএলে অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রানের ইনিংস ছিলো শ্রেয়াস আইয়ারের। ২০১৭ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে দিল্লী ক্যাপিটালসের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ৪০ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন আইয়ার।

  • কাইরেন পোলার্ড (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স – ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

২০১৯ সালে অধিনায়ক হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অভিষেক হয় ক্যারিবিয়ান জায়ান্ট কায়রন পোলার্ডের। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে মাত্র ৩১ বলে ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

  • অ্যারন ফিঞ্চ (পুনে ওয়ারিয়র্স – অস্ট্রেলিয়া)

অজি ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ২০১৩ সালে অধিনায়ক হিসেবে আইপিএল অভিষেকে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডধারী ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর তিনি এই রেকর্ড ধরে রাখেন। পুনে ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক হিসেবে ২০১৩ সালে অভিষেক হয় ফিঞ্চের। অভিষেক ম্যাচে পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪২ বলে ৬৪ রানের দূর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তার এই রেকর্ড ভাঙেন শ্রেয়াস আইয়ার।

  • মুরালি বিজয় (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব – ভারত)

২০১৬ সালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের (বর্তমান পাঞ্জাব কিংস) হয়ে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় মুরালি বিজয়ের৷ গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৪১ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে ২৩ রানে হারে গুজরাট লায়ন্স।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link