একলা চলো রে, কিন্তু কোথায়?

অথচ, এই মেসিই ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইউরোপে বার্সেলোনাই আমার একমাত্র ক্লাব থাকবে।’

বলা হয়ে থাকে, রাজনীতি আর ইউরোপিয়ান ফুটবলে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তাই তো, আঁতুরঘর বার্সেলোনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন স্বয়ং লিওনেল মেসি। এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ক্লাব ছাড়ার জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন। সেই ১৩ বছর বয়স থেকে যেখানে আছেন মেসি, সেই সম্পর্কটা শেষ হতে চলেছে।

অথচ, এই মেসিই ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইউরোপে বার্সেলোনাই আমার একমাত্র ক্লাব থাকবে।’

কারো জন্য পৃথিবী থেমে থাকে না। মেসি তাই বার্সেলোনার জন্য থেমে থাকেননি, হয়তো বার্সেলোনাও মেসির জন্য থেমে থাকবেন না। এখন বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন একটাই, মেসি যাবেন কোথায়?

  • ফিরবেন সাবেক গুরুর ছায়াতলে?

ম্যানচেস্টার সিটিই লজিকালি মেসির জন্য আদর্শ গন্তব্য। সেখানে আছেন পেপ গার্দিওলা, মেসির সাবেক কোচ। দু’জনে মিলে বার্সেলোনার হয়ে বিশ্ব কাঁপিয়েছেন। আর মেসিকে আনতে যেমন আর্থিক সামর্থ্য দরকার (৭০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ), সেখানে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি।

সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে মরিয়া। আর সেই লড়াইয়ে ক্লাবটির তুরুপের তাস হতে পারেন মেসিই। আর ৩৩ বছর বয়সী তারকা ইতিহাদে পাবেন স্বদেশি বন্ধু সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে। ক্লাব পর্যায়ে এই জুটিকে দেখাটা দর্শকদের জন্যও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হবে।

  • হঠাৎ আলোচনায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

মেসির বার্সা ছাড়ার খবর চাউড় হতে না হতেই হঠাৎ করে দৃশ্যপটে হাজির ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। খেলাধুলা বিষয়ক স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘স্পোর্ট’ তেমনই দাবী করেছে। যদিও, গোল.কমের দাবী মেসি নিজে যেতে যান সিটিতে।

তবে, একটা ব্যাপার হল ইউরোপিয়ান মঞ্চে তো বটেই, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও অনেকদিন হল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। ফলে, মেসির আদৌ আগ্রহী হওয়ার কোনো কারণ নেই।

  • ফিরবে মেসি-রোনালদো লড়াই?

ইন্টার মিলানের সুদিন নেই অনেক দিন। হারানো সময় ফেরাতে সেই ২০০৮ সাল থেকে মেসির পেছনে ছুটছে সিরি ‘এ’র ক্লাবটি। আগে যতবারই ইন্টার চেয়েছে মেসিকে, মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি বার্সা ছাড়তে চান না। তবে, এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, মেসিকে রাজার হালে রাখতে চায় ইন্টার। সেক্ষেত্রে তিনি সিরি ‘এ’র সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার হতে পারেন, ছাড়িয়ে যেতে পারেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। আবার দু’জনের মুখোমুখি লড়াই দেখার মঞ্চও প্রস্তুত হতে পারে এর মধ্য দিয়ে।

  • প্যারিসের সেনানী হবেন?

২০১৭ সালে নেইমারকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি’র বিনিময়ে নিয়ে চমকে দিয়েছিল ফরাসী ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। এবার তাঁদের চোখ মেসির দিকে। আর বার্সা সভাতি জোসেফ মারিয়া বার্তেমিউ মেসিকে নিয়ে এই মুহূর্তে ব্যবসা করতে চান, সেক্ষেত্রে পিএসজি হতে পারে আদর্শ ক্রেতা।

প্যারিসে গেলে অবশ্য ক্লাবটি একটা দানবীয় চেহারা নেবে। আক্রমণ ভাগে মেসির সাথে নেইমার আর কিলিয়ান এমবাপ্পে – আর কি চাই! ওহ ভাল কথা, পিএসজিতেই কিন্তু আছেন মেসির স্বদেশী ডি মারিয়া ও মাওরো ইকার্দি।

  • রিয়াল কেন নয়?

রিয়াল হতে পারে মেসির জন্য উত্তম জায়গা। ইতিহাসে অনেক খেলোয়াড়ই বার্সেলোনা ও রিয়াল – দুই দলেই খেলেছেন। এর মধ্যে ব্রাজিলের রোনালদো, লুইস ফিগো ও মাইকেল লওড্রপরা আছেন। সেই তালিকায় মেসিও আসতে পারেন। যদিও, এই আলোচনা এখনও খুব প্রকট হয়নি।

ক’দিন আগে শোনা যাচ্ছিল, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নাকি বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করে দিতে চায় জুভেন্টাস। একবার ভাবুন তো, মেসি রিয়ালে আর বার্সেলোনায় রোনালদো – এমন বৈপরীত্বের লড়াই কে ভেবেছিল কবে?

আরও পড়ুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.