মেসিকে ক্ষেপিয়ে দিতে নেই!

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকাতে নেই। আর ফুটবলে একটা অলিখিত নিয়ম আছে। লিওনেল মেসিকে অযথা ক্ষেপিয়ে দিতে নেই। আর এই ক্ষেপিয়ে দেওয়ার দুঃসাহসটাই দেখিয়েছেন জুড বেলিংহাম।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকাতে নেই। আর ফুটবলে একটা অলিখিত নিয়ম আছে। লিওনেল মেসিকে অযথা ক্ষেপিয়ে দিতে নেই। আর এই ক্ষেপিয়ে দেওয়ার দুঃসাহসটাই দেখিয়েছেন জুড বেলিংহাম। আর ওটাই সর্বনাশ ডেকে এনেছে ইংল্যান্ড শিবিরে।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমানতালে চলেছে স্নায়ুযুদ্ধও। ম্যাচের এক পর্যায়ে দেখা যায় লিওনেল মেসি এবং জুড বেলিংহামের মধ্যে কথার লড়াই। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তর্ক করেছেন বেলিংহাম। মেসি তখন মাথা ঝাঁকিয়েছেন, হয়তো বলেছেন, বাকিটা সময় দেখো কী হয়! বেলিংহাম বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন নামটা লিওনেল মেসি।

ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, লিওনেল মেসিকে ক্ষেপিয়ে দেওয়া খুব কম সময়ই প্রতিপক্ষের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে। মেসি সাধারণত শান্ত। মাঠে অযথা বিতর্কে জড়ান না। কিন্তু যখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন, তখন তাঁর ফুটবল আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

বেলিংহামের সঙ্গে সেই বাকবিতণ্ডার পর যেন বদলে যেতে শুরু করল ম্যাচের চিত্র। মেসির প্রতিটি স্পর্শে বাড়তে থাকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের তীব্রতা। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলেছেন। অ্যান্থনি গর্ডনকে তো মাটিতে গড়াগড়ি খেতে হয়েছে মেসিকে সামলাতে গিয়ে। একাধিকবার ফাউলের আশ্রয় নিতে হয়েছে অ্যান্ডারসনকে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠছিল অস্বস্তি।

এরপর তো ইতিহাস। দুই গোলের পেছনের কারিগর মেসি। আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখা গেলেও যায়, তবে মেসিকে আটকানোর মন্ত্র এখনও আবিষ্কার হয়নি! এর ওপর তাঁকে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখানো যে খাল কেটে কুমির আনার মতো বিপদকে ডেকে আনা।

শেষমেষ আর্জেন্টিনা উল্লাসে মেতেছে, আর ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। যে বেলিংহাম মেসির সঙ্গে মানসিক লড়াইয়ে নামতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই হতাশ মুখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আর মেসি? তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনা মহানায়কের ভূমিকায়।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link