ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় ওয়ানডেতে ফল নিয়ে যতটা না কথা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি কথা হচ্ছে একটা আউট নিয়ে, আর সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে আছেন বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। ৩ অক্টোবর চণ্ডীগড়ের মাঠে হওয়া ম্যাচটিতে তিনি ছিলেন টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে।
সাড়ে তিনশোর বেশি রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন ২০৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে ভালো জায়গায়। ৩০তম ওভারের শেষ বলে নামান ধীরের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়েছিলেন শেরফান রাদারফোর্ড, তখন তাঁর রান ২৫ বলে ২৪। লোকেশ রাহুল ক্যাচ নিয়ে আবেদন করলে অনফিল্ড আম্পায়ার আউট দেন, আর রাদারফোর্ড সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন।
রিপ্লেতে স্নিকোমিটারে একটা স্পাইক দেখা যায়, কিন্তু একই মুহূর্তে রাদারফোর্ডের ব্যাট তাঁর প্যাডেও লেগেছিল। তাই প্রশ্নটা দাঁড়ায়, আওয়াজটা বলের, না ব্যাট-প্যাডের? এসব ক্ষেত্রে স্নিকো শুধু শব্দ ধরে, শব্দ কীসের সেটা বলে না, তাই শেষ ভরসা থাকে ভিডিও রিপ্লে। সৈকত জানান, ব্যাট আর বলের মাঝে তিনি স্পষ্ট কোনো ফাঁক দেখেননি। নিয়ম অনুযায়ী মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে টিভি আম্পায়ারের কাছে পরিষ্কার প্রমাণ লাগে, সেটা না থাকায় আউটই বহাল থাকে।

সমস্যা হলো, অনেকেই পর্দায় ঠিকই ফাঁকটা দেখেছেন। ভারতের সাবেক ব্যাটার আকাশ চোপড়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ওটা আউট ছিল না। ব্যাট লেগেছে প্যাডে।” বিশ্লেষক বিক্রান্ত গুপ্তের ভাষ্য, “শেরফান রাদারফোর্ড আউট ছিলেন না।” ফাঁকটা সবাই দেখলেও টিভি আম্পায়ার কীভাবে দেখলেন না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সুনীল গাভাস্কারের মতে, স্টাম্প মাইকের আওয়াজটা সম্ভবত ব্যাট-প্যাডেরই। ধারাভাষ্যে ইয়ান বিশপ সিদ্ধান্তটাকে বললেন “আকর্ষণীয় সিদ্ধান্ত”, তবে তাঁর সুরে ভরসা ছিল না। রাদারফোর্ডও মাঠের আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ জানান, শেষে অধিনায়ক শাই হোপের কথায় মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচ অবশ্য ওই আউটে আটকে থাকেনি, ১০ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবু ডিআরএসের পুরোনো সীমাবদ্ধতাটা আবার সামনে এসেছে। ব্যাট, প্যাড আর বল একসঙ্গে এলে প্রযুক্তি সব উত্তর দিতে পারে না, তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয় চোখে দেখা প্রমাণের ভরসায়। সেই চোখ ভুল করতেও পারে, আবার নিয়ম মেনে সতর্কও থাকতে পারে।
তবে একটা আউটের সিদ্ধান্ত দিয়ে সৈকতের পুরো ক্যারিয়ার বিচার করাটা ঠিক হবে না। ২০০৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিং করছেন তিনি, ২০২৪ সালের মার্চে হয়েছেন আইসিসি এলিট প্যানেলের প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার। সেই সময়ই তাঁর ঝুলিতে ছিল ১০ টেস্ট, ৬৩ ওয়ানডে আর ৪৪ টি-টোয়েন্টি, সঙ্গে নারী ক্রিকেটেও অনেক ম্যাচ। ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচসহ পাঁচটি ম্যাচে তিনি মাঠের আম্পায়ার ছিলেন, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ম্যাচ অফিশিয়াল হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ১০০টি পুরুষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার কীর্তিও তাঁর। তাই চন্দীগড়ের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক চলতেই পারে, কিন্তু বিশ্বের সেরা আম্পায়ারদের সারিতে তাঁর জায়গাটা এক দিনে তৈরি হয়নি, বছরের পর বছর ধরে ভালো কাজের জোরেই হয়েছে।












