ইংলিশ ক্রিকেটারের পাকিস্তানভীতি

পাকিস্তান দেশ হিসেবে বেশ ক্রিকেট পাগল হলেও, সেই দেশেই কিনা অন্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো যেতে সাহস করেনা। কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা বেশ অস্থিতিশীল। এইতো গেল কয়দিন আগেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যার কারণে আবারও পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হুমকির মুখে পড়েছে।

পাকিস্তান দেশ হিসেবে বেশ ক্রিকেট পাগল হলেও, সেই দেশেই কিনা অন্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো যেতে সাহস করেনা। কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা বেশ অস্থিতিশীল। এইতো গেল কয়দিন আগেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যার কারণে আবারও পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হুমকির মুখে পড়েছে।

এমন রাজনৈতিক হামলার ঘটনার জন্যই সাধারণত দলগুলো পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখতে সাহস করেনা। সদ্যই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জোর প্রচেষ্টায় এবং নিরাপত্তার আশ্বাসে বিদেশী দলগুলো সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যেতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইমরান খানের ওপর এই হামলা নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে পুনরায় উস্কে দিচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ২৬ নভেম্বর পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের। সেই দলের সদস্য হিসেবে যাবেন ইংলিশ পেসার মার্ক উড। ইমরান খানের ওপর হামলা যে ক্রিকেটবিশ্বে শঙ্কা তৈরি করেছে এই প্রসঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন এই ক্রিকেটার। মার্ক উড বলেন, ‘এটা মোটেও ভাল খবর নয়। প্রথমত উনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। আমাদের কাছেরই একজন। বিশ্বক্রিকেটের মতোই এটা আমার কাছেও বেশ দু:খজনক।’

বিশ্বকাপের আগে আগে সাত টি-টোয়েন্টি বিশিষ্ট একটি সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে গিয়েছিল ইংরেজ দলটি। তখনকার অভিজ্ঞতা নিয়ে মার্ক উড বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে আগেরবার দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। তবে সফরকালীন সময়য়ে নিরাপত্তা চিন্তিত ছিলাম না বললে মিথ্যা বলা হবে।’

এবার পাকিস্তান সফরে ইংল্যান্ড দলটি করাচি, রাওয়ালপিন্ডি এবং মুলতানে তিন টেস্টবিশিষ্ট একটি সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ পাকিস্তানের এমন রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হামলার ঘটনায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল হয়তোবা তাঁদের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসতে পারে। আপাতত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষের আগে সেই বিষয়ে জানা যাবেনা।

তবে মার্ক উড আসন্ন সফর সম্পর্কে বলেন, ‘শেষমেশ সিদ্ধান্ত আমার ওপরের লোকেরাই নেবে। কিন্তু স্পষ্টতই আপনি যখন একজন ক্রিকেটার হিসেবে সেখানে যাবেন এবং সেই দেশে অস্থিরতা থাকবে, তখন এটা উদ্বেগজনক। পাকিস্তানে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ে আলোচনা করা আমাদের কাজ নয়। আমরা এই মুহুর্তে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর আস্থা রাখছি।’

পাকিস্তানে এমন হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০০৯ সালে পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কার টিম বাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় ছয় পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই কোন ক্রিকেট খেলুড়ে দলই আর পাকিস্তান সফরে যেতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। গেল বছরও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল তাদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছিল। এরপর ইংল্যান্ডও প্রস্তাবিত সফর বাতিল করেছিল।

তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এবারের ঘটনাও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। কেননা আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসরটি পাকিস্তানে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই হামলার ঘটনার পর আইসিসির ভেন্যু সম্পর্কিত পরিকল্পনায় খুব সম্ভবত পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...