লাল বলের ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে তেরো হাজার রানের কীর্তি

খেলা ৭১ এর আজকের আয়োজনে থাকছে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ১৩,০০০ রান করা এমনই পাঁচ ব্যাটারের গল্প, যাঁরা নিজেদের যুগে ব্যাট হাতে সময়কে জয় করেছেন।

টেস্ট ক্রিকেট মাত্রই ধৈর্য্যের পরীক্ষা, সময়ের সঙ্গে লড়াই এবং প্রতিটি সেশনে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার নাম। পাঁচ দিনের দীর্ঘ এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে রান করে যাওয়া মানে কেবল ব্যাটিং প্রতিভা নয় – মানসিক দৃঢ়তা, টেকনিক্যাল পরিপক্বতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার অসাধারণ সক্ষমতার পরিচয় দেওয়া। সেই প্রেক্ষাপটে টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,০০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়া ব্যাটাররা ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য আসনে অধিষ্ঠিত।

আর সেই রান যদি তুলনামূলকভাবে কম ইনিংসে আসে, তাহলে সেটি হয়ে ওঠে আরও বিশেষ। খেলা ৭১ এর আজকের আয়োজনে থাকছে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ১৩,০০০ রান করা এমনই পাঁচ ব্যাটারের গল্প, যাঁরা নিজেদের যুগে ব্যাট হাতে সময়কে শাসন করেছেন।

  • জো রুট (২৭৯ ইনিংস)

তালিকার সর্বশেষ সংযোজন টেস্ট ক্রিকেটে আধুনিক যুগের অন্যতম কিংবদন্তি জো রুট। তিনি ১৫৩টি ম্যাচ ও ২৭৯টি ইনিংসে টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,০০০ রান পূর্ণ করেন।

২০২৫ সালে নটিংহ্যামে ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে রুট এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি আর আধুনিক ক্রিকেটের চাপের মাঝেও টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই রুটকে এই অভিজাত তালিকায় পৌঁছে দিয়েছে।

  • রাহুল দ্রাবিড় – (২৭৭ ইনিংস)

ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি ‘দ্যা ওয়াল’ খ্যাত রাহুল দ্রাবিড়। ভারতীয় এই কিংবদন্তি ১৬০টি ম্যাচ ও ২৭৭টি ইনিংসে টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,০০০ রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন।

দ্রাবিড়ের ব্যাটিং মানেই ছিল অবিচলতা ও সহনশীলতা। বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতিতে, ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে একা হাতে সামলে নেওয়ার বহু স্মরণীয় ইনিংস রয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারে। দ্রুত রান নয়, বরং সময়ের সঙ্গে লড়াই করাই ছিল তাঁর মূল শক্তি।

  • রিকি পন্টিং – (২৭৫ ইনিংস)

সর্বকালের সেরা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। টেস্টে ১৩,০০০ রান পূর্ণ করতে তাঁর লেগেছিল ১৬২টি ম্যাচ ও ২৭৫টি ইনিংস।

আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও বড় ম্যাচে পারফর্ম করার দক্ষতার জন্য পরিচিত পন্টিং, ২০১২ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের যুগে ব্যাট হাতে দলের চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি।

  • জ্যাক ক্যালিস (২৬৯ ইনিংস)

দ্বিতীয় দ্রুততম হিসেবে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। ১৫৯টি ম্যাচ ও ২৬৯টি ইনিংসে টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,০০০ রানের মাইলফলক পূর্ণ করেন তিনি।

ক্যালিসের ব্যাটিং ছিল স্থির, নির্ভরযোগ্য এবং নিখুঁত। কঠিন কন্ডিশনে দল বিপদে পড়লে তাঁর উপস্থিতিই হয়ে উঠত সবচেয়ে বড় আশ্বাস। যদিও তিনি অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত, তবু টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং পরিসংখ্যান তাঁকে ইতিহাসের সেরা ব্যাটারদের কাতারেই নাম লিখিয়েছে।

  • শচীন টেন্ডুলকার – (২৬৬ ইনিংস)

টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ১৩,০০০ রান করা ব্যাটারদের তালিকার শীর্ষে আছেন ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বড় নামটিই – শচীন টেন্ডুলকার। ১৬৩টি ম্যাচ ও মাত্র ২৬৬টি ইনিংসেই এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন দ্যা লিটল মাস্টার।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি কন্ডিশনে রান করার সক্ষমতা শচীনকে আলাদা করে তুলেছিল। সুইং হোক বা স্পিন, দ্রুতগতির পেস আক্রমণ কিংবা চাপের মুহূর্ত, সব পরিস্থিতিতেই তাঁর ব্যাট কথা বলেছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link