মাঠে ফুটবল জাদু, বাইরে প্রেমের হ্যাটট্রিক!

বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন লামিন ইয়ামাল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাস্তানাবুদ করছেন একের পর এক ম্যাচে। কিন্তু গোল, অ্যাসিস্ট আর জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের বাইরে এখন আরেকটি বিষয় নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা—তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া।

বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন লামিন ইয়ামাল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাস্তানাবুদ করছেন একের পর এক ম্যাচে। কিন্তু গোল, অ্যাসিস্ট আর জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের বাইরে এখন আরেকটি বিষয় নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা—তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসছে একটি মুখ। গ্যালারিতে তাকে সমর্থন দিতে দেখা যায়, আবার কখনও দুজনের একসঙ্গে ঘোরাঘুরির ছবি ভাইরাল হয়। প্রশ্নটা তাই একটাই—কে এই ইনেস গার্সিয়া?

স্পেনের সেভিয়ার ২১ বছর বয়সী ইনেস গার্সিয়া পেশায় একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ফ্যাশন, বিউটি ও লাইফস্টাইল নিয়ে ভিডিও বানিয়েই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক মিলিয়ে তার অনুসারীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।

যদিও তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে ২০২৬ সালের মে মাসে, বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময়। সেদিন দুজনকে হাত ধরাধরি করে দেখা যাওয়ার পর আর কোনো সন্দেহই থাকেনি। তবে তারও আগে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর কিছু ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল গুঞ্জন, যা পরে সত্যি প্রমাণিত হয়।

তবে ইনেসকে নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় কারণ সম্পর্ক নয়, বরং তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎই দাবি ওঠে, ইনেস নাকি পাঁচ বছরের একটি সম্পর্ক ভেঙে লামিন ইয়ামালের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কেউ কেউ আবার তাকে প্রতারক বলেও আক্রমণ করতে শুরু করেন। গুজব এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে শেষ পর্যন্ত ইনেসকে নিজেই ইনস্টাগ্রামে ভিডিও প্রকাশ করে জবাব দিতে হয়।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গঞ্জালো” নামে কারও সঙ্গে তার পাঁচ বছরের কোনো সম্পর্কই ছিল না। পুরো ঘটনাই বানানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া একটি গুজব।

তবে বিতর্ক থামেনি। বরং বয়েসের পার্থক্য, ইনেসের জনপ্রিয়তা, এমনকি তিনি ইয়ামালের খ্যাতির সুযোগ নিচ্ছেন কি না—এসব নিয়েও প্রতিদিন চলছে তর্ক-বিতর্ক। টিকটক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম—সব জায়গাতেই এখন এই জুটিকে ঘিরে আলোচনা।

মজার বিষয় হলো, সমালোচনা যত বেড়েছে, ইনেসের জনপ্রিয়তাও তত বেড়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহেই তার অনুসারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই এটাকে মজার ছলে বলছেন, “লামিন ইয়ামাল ইফেক্ট”।

অবশ্য ইনেসই প্রথম নন, এর আগেও একাধিকবার ইয়ামালের প্রেমজীবন খবরের শিরোনাম হয়েছে।

প্রথমে স্প্যানিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর আলেক্স পাদিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ২০২৫ সালে আর্জেন্টাইন গায়িকা নিকি নিকোলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ইয়ামাল। বার্সেলোনার ম্যাচে গ্যালারিতে নিয়মিত দেখা যেত নিকি নিকোলকে। কিন্তু সেই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। বছরের শেষদিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। পরে ইয়ামাল জানান, বিচ্ছেদটি হয়েছিল পারস্পরিক সম্মতিতেই।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফাতি ভাসকেজ, স্প্যানিশ গায়িকা ব্যাড গ্যাল এবং ব্রিটিশ মডেল লিলি রাউল্যান্ডের সঙ্গেও ইয়ামালের নাম জড়িয়েছিল। তবে সেসব সম্পর্কের কোনোটি কখনো নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্বকাপে স্পেন যত এগোচ্ছে, লামিন ইয়ামালকে ঘিরে আগ্রহও তত বাড়ছে। একদিকে মাঠে তার ফুটবল জাদু, অন্যদিকে মাঠের বাইরে প্রেমের গল্প। সব মিলিয়ে এখন মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকা শুধু গোল করেই নয়, নিজের ব্যক্তিগত জীবন দিয়েও প্রতিদিন নতুন করে শিরোনাম তৈরি করছেন।

 

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link