রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই! ইংল্যান্ডকে চমকে দিতে শেষ মুহূর্তে একাদশে বড় পরিবর্তনের ভাবনায় স্কালোনি
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, ইতিহাস, আবেগ আর ফাইনালের টিকিট—সবকিছুই জড়িয়ে আছে এই লড়াইয়ে। তাই লিওনেল স্কালোনিও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। আর্জেন্টিনার অনুশীলনে বারবার দেখা গেছে নতুন নতুন পরীক্ষা। সব ইঙ্গিত বলছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের পরিকল্পনা গোপন রাখবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচ।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জিতলেও আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন স্কালোনি। বিশেষ করে মাঝমাঠে গতি, প্রেসিং আর দুই উইং সামলানো নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট। সেই কারণেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—রদ্রিগো ডি পল কি একাদশে থাকছেন?
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ও ইএসপিএনের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডি পলের জায়গা নিয়ে এখন ত্রিমুখী লড়াই চলছে। জুলিয়ানো সিমেওনে, নিকোলাস গনসালেস, এমনকি পালাসিওসকেও বিবেচনায় রেখেছেন স্কালোনি। এবারের বিশ্বকাপে ডি পল নিজের সেরা ছন্দে নেই। অন্যদিকে সিমেওনের গতি এবং গনসালেসের পরিশ্রম ইংল্যান্ডের শক্তিশালী দুই প্রান্ত সামলাতে বাড়তি অস্ত্র হতে পারে।

শুধু একজন খেলোয়াড় বদল নয়, পুরো ছকই বদলে যেতে পারে। স্কালোনি অনুশীলনে ৪-৪-২, ৪-৩-৩-এর পাশাপাশি ৫-৩-২ ফরমেশনও পরীক্ষা করেছেন। সেই পরিকল্পনায় নিকোলাস ওটামেন্ডিকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সঙ্গে তিন সেন্টার-ব্যাকের লাইনে দেখা গেছে। দুই উইং-ব্যাকে নাহুয়েল মোলিনা বা জুলিয়ানো সিমেওনে এবং বাম পাশে ট্যাগলাফিকো কিংবা নিকোলাস গনসালেস—এমন সম্ভাবনাও জোরালো।
ডান-ব্যাকেও নিশ্চিত নন নাহুয়েল মোলিনা। তার জায়গায় গনসালো মন্টিয়েলকে খেলানোর চিন্তাও রয়েছে কোচের। অর্থাৎ সুইজারল্যান্ড ম্যাচের শুরুর একাদশ হুবহু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেখা যাবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে স্কালোনির সবচেয়ে বড় শক্তি সবসময়ই ছিল প্রতিপক্ষ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও তিনি হঠাৎ করে তিন সেন্টার-ব্যাকের কৌশল নিয়েছিলেন। এবারও ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে থামাতে তেমনই কোনো চমক দেখা যেতে পারে।

ম্যাচের আগে স্কালোনির বার্তাটাও স্পষ্ট। তিনি এই লড়াইকে যুদ্ধ নয়, ফুটবল হিসেবেই দেখতে চান। তবে জয়ের ইচ্ছায় কোনো ঘাটতি রাখবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
“আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। যদি পারি, দারুণ। না পারলেও রক্তের শেষ বিন্দু, ঘামের শেষ ফোঁটা দিয়ে জয়ের জন্য লড়াই করব।”
অন্যদিকে ডি পলও জানিয়ে দিয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন ম্যাচের জন্যই নাকি তিনি ফুটবল খেলেন। এই ধরনের ম্যাচই তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে।
এখন দেখার বিষয়, স্কালোনি শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞদের ওপরই আস্থা রাখেন, নাকি সিমেওনে, গনসালেস কিংবা পালাসিওসদের মতো অপেক্ষায় থাকা মুখগুলোকে সুযোগ দিয়ে ইংল্যান্ডকে কৌশলগত চমক উপহার দেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—আর্জেন্টিনা শুধু প্রতিভার জোরে নয়, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েই ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে আনার লড়াইয়ে নামছে।












