তিনি সবই করেন, তবে সোরগোল হয় অন্যদের নিয়ে। ট্যালেন্ট দিয়ে বিচার করতে গেলে হ্যারি ব্রুকের এই সময়ে হ্যারি ব্রুকের আশেপাশে কেউ কোথাও নেই। আবার পারফরম্যান্স দিয়ে বিচার করলেও প্রায় একই কথা প্রযোজ্য। তবুও তারকাখ্যাতির আলো এসে পড়ে না তার ওপর। ক্রিকেটের পাঁড় ভক্ত না হলে হ্যারি ব্রুক কী জিনিস, তা বুঝতে পারবেন না। তবুও ব্রুক নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন। তিন ফরম্যাটেই সমান তালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ৭৭ রানের ইনিংস তারই প্রমাণ।
এই যুগে এসে তিন ফরম্যাট খেলা ব্যাটার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিরাট কোহলি-পরবর্তী সময়ে হাতে গোনা যে দু-একজন আছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটা হ্যারি ব্রুক। টেস্ট থেকে ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি, নিজেকে পানির মতো সহজ বানিয়ে ফেলেছেন ব্রুক। যে পাত্রেই রাখুন না কেন, যে ফরম্যাট খেলান না কেন, ব্রুক রান করবেনই। শুধু রান নয়, ফরম্যাটের দাবি মেনেই ব্যাটও করবেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার সাথে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরিও এসেছে। ওয়ানডেতে প্রথম ম্যাচেই ৬৭। শেষ ম্যাচে ৭৭ রান। এই যে সংখ্যাগুলো বললাম, এটাই বুঝিয়ে দেয় ফরম্যাটভেদে কতটা অনবদ্য হ্যারি ব্রুক।
মাত্র ৬৬ বল খেলেছেন। ১১৬ স্ট্রাইক রেটে ৭৭ রানের ইনিংস। চার নম্বরের আদর্শবান ব্যাটার থেকে যা প্রত্যাশা করা হয়, সেটাই দিয়েছেন ব্রুক। যেভাবে ব্যাট চলছিল, একটা সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখা দোষের ছিল না। সেটা হয়নি, তবে নিজের কাজ করে গেছেন সুনিপুণভাবেই।

তবুও একটা আক্ষেপ থেকে যায়, কিছু প্রশ্ন রয়ে যায়। ব্রুক সবই করছেন, তবুও কি মূল্যায়ন ঠিকঠাক পান? তাঁর থেকেও কম প্রতিভা নিয়ে তারকাখ্যাতি পাওয়া লোকের সংখ্যা কম নয়। অসীম প্রতিভা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রুকের ওপর সেই আলোটা এসে পড়ে না। তাই তো সময়ের সেরা হয়েও আন্ডাররেটেড তকমাটা গায়ে লাগিয়ে ফেলেছেন। আলোর উল্টো পথে হাঁটছেন, তবে সেটা বীরদর্পেই।










